মোঃ রবিউল ইসলাম, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:
নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ ষড়যন্ত্র করে তাহলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যত তালবাহানা করা হবে, সংকট তত ঘনীভূত হবে। সুতারাং সরকারকে বলবো নির্বাচন আজ হোক কাল হোক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
গতকাল শনিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু প্রিয়নাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে গন অধিকার পরিষদ হরিণাকুন্ডু উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না। আওয়ামী লীগ একটা মাফিয়া দল। শুনেছি ডামি এমপিরা এবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য পায়তারা চালাচ্ছেন। আমরা তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবেলা করবো।
গণসমাবেশে হরিণাকুন্ডু উপজেলা আহ্বায়ক আমর বিন মারুফ জিতুের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন কবীর,ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি প্রভাষক মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল জাহিদ রাজন, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহমুদ হাসান মিল্টন, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি রাসেল আহমেদ, ঝিনাইদহ যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি রকিবুল ইসলাম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন হরিণাকুন্ডু পৌর শাখার আহ্বায়ক মকলেচুর রহমান টোকন মিয়া।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নতুন বাংলাদেশে দমন-পীড়ন, জুলুম-নির্যাতন চলবে না। এখানে গণতন্ত্র ও ন্যায় বিচার এবং মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে। সারা দেশের মানুষ হাসিনার বিরুদ্ধে ও জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আমরা আগামীতে এমন নেতা দেখতে চাই না, যে নেতা জনগণের বিরুদ্ধে করে। কোন ভাবেই দুর্নীতিবাজ, মাফিয়া, চাঁদাবাজ ও লুটপাটকারীরা সুযোগ যেন না পায়।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নির্মম পতন হয়েছে। ১৪ থেকে ১৫ বছর ধরে তারা এসে মানুষের সঙ্গে জুলুম ও নির্যাতন করেছে। তারা গুম করেছে, খুন করেছে। যারা বিএনপি, জামায়াত ও গণ অধিকার পরিষদের রাজনীতি করতো তারা কেউ ঘরে ঘুমাতে পারেনি। যারা ভিন্ন মতের রাজনীতি করতো তারা কেউ শান্তিতে রাজনীতি করতে পারেনি। আমরা অসংখ্য আন্দোলন করেছি। কিন্তু কোন আন্দোলনের মধ্যেই আওয়ামী লীগকে পতন করা যায়নি। ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলাম আমরাই। সেই কোটা আন্দোলনের সূত্র ধরে স্বৈরাচারি হাসিনা সরকারের পতন হবে তা আমরা কেউ জানতাম না। ২০২৪ সালে হাসিনা তদন্ত করে আবারো কোটা ফিরিয়ে আনলো। এরই প্রতিবাদে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা বৈষম্য বিরুদ্ধে রাজপথে নামলো। আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ অসংখ্য মানুষ রাজপথে শহীদ হলো। এর মধ্যে আমাদের ঝিনাইদহের দুইজন শহীদ হয়েছে। আগামীতে যেন ঝিনাইদহতে এই স্বৈরাচারের দোসররা কোন রকম রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।