নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি :
ইছামতি নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠা কৃষির নির্ভর গ্রাম বক্তারনগর । যা ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত। এক সময় এই এলাকায় বসবাস করতো একটি জমিদার পরিবার। যা দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণের কাছে বক্তারনগরের জমিদার পরিবার হিসেবে পরিচিত। এ জমিদার পরিবারটি তৎকালিন সময়ে তাদের জমির উপর নির্মাণ করে ছিলো চোখধাঁধানো দালান। যার নির্মাণশৈলী দেখে ওই সময় বিভিন্ন স্থান থেকে লোক আসতো তাদের দ্বিতল এই বাড়িটি দেখতে।
কিন্তু কালের বিবর্তনে বক্তারনগর জমিদার বাড়ির একটা বড়, অংশই সংস্কারহীনতার কারণে ধ্বংস সন্তূপে পরিণত হয়েছে। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সুধু কিছু পুরাতন দালান কোঠা। আজ আর সেই জমিদার বাড়ির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। বক্তারনগর জমিদারদের প্রতিষ্ঠিত চোখধাঁধানো একটি মসজিদ রয়েছে এখনো। মসজিদের নির্মাণকাল ১৮৭০ সাল।
জানা যায়, ফয়জুন্নেসা নামক এক গৃহবধু এই জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা। পরে তাঁর ছেলে আলী জান মিয়া এই জমিদারি দেখাশুনা করতেন। অতপর আলী জান মিয়ার ছেলে সৈয়দ উবায়দুল্লা শিকারীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। উবায়দুল্লা সাহেবের ছেলে শাহাবুদ্দিন (খোকা মিয়া) সাহেব এই সম্পত্তি দেখাশুনা করতেন। অর্থাৎ এই এস্টেট এখনো মূল মালিকদের রয়েছে। তারপরও এটি কেন পরিত্যক্ত ও জীর্ণ, এমন তথ্য জানতে চাওয়া হয় শিকারীপাড়া ইউনিয়নে গরিবপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মোঃ আইজ উদ্দিন(৬৮) এর কাছে। তিনি বলেন, আমার বয়স যখন(১০) বছর তখন এই জমিদার বাড়িতে আসতাম আমার বাবার সাথে। তিনি আরো বলেন, সৈয়দ উবায়দুল্লা সাহেবের পরিবারের সদস্যদের রাজধানী ঢাকায় অনেক জমিজমা ও বাড়ি রয়েছে। এজন্য তাঁরা গ্রামে আসেন না হয়তো।
অপরদিকে বক্তারনগর জমিদারবাড়ি সম্পর্কে লেখক মোহাম্মদ মাহমুদ আলি তাঁর ‘পূর্ববঙ্গের জমিদারবাড়ি’ বইতে লিখেছেন, আনুমানিক ১৭৫০ সালের দিকে শাহবুদ্দিন শাহ এই জমিদারির গোড়াপত্তন করেন। জমিদারবাড়ির আয়তন উল্লেখ করা রয়েছে পাঁচ বিঘা। সুলতান শাহবুদ্দিন শাহের মৃত্যুরপর পর জমিদারি পরিচালনা করেন তাঁর ছেলে। তবে বইতে তাঁর ছেলের নাম উল্লেখ নেই। বক্তারনগরের জমিদার বাড়িটি স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরত্বপূর্ণ নিদর্শন। দেশের যে কোন স্থান থেকে রাজধানীর গুলিস্থান এলাকার হযরত গোলাপ (রঃ) এর মাজার এলাকা থেকে নবাবগঞ্জ ভায়া বান্দুরার বাসে আসতে হবে। বান্দুরা থেকে ইজিবাইকে বক্তার নগর জমিদার। জনপ্রতি আসা ও যাওয়ায় তিনশত টাকা ব্যয় হবে।