আলী আহসান রবি :
৩০ জুলাই ২০২৬
শীতলক্ষ্যা নদীতে টহল পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন সোনাচরা এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিলগ্নে দেশীয় অস্ত্রসহ ১ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল ২৯ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল অনুমান ০৭:৩০ ঘটিকায় কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি আভিযানিক দল শীতলক্ষ্যা নদীতে নিয়মিত নৌ টহল ডিউটি করাকালীন গোপন সূত্রে সংবাদ পায় যে, বন্দর থানাধীন সোনাচরা সাকিনের স্কুল ঘাট সংলগ্ন এলাকায় জনৈক মোঃ আইজুদ্দিনের পরিত্যক্ত বাড়িতে একদল দুষ্কৃতকারী ডাকাতির উদ্দেশ্যে সশস্ত্র প্রস্তুতি গ্রহণ করে অবস্থান করছে।
সংবাদটি পাওয়ার সাথে সাথে কাঁচপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং নির্দেশক্রমে আভিযানিক দলটি সকাল অনুমান ০৮:০০ ঘটিকায় উক্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে অবস্থানরত ১০-১২ জনের সশস্ত্র দলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় নৌ পুলিশের আভিযানিক দল পিছু ধাওয়া করে মোঃ রাজু আহম্মেদ (২৫) নামক ১ জন ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং বাকি আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের সম্মুখে গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ রাজুকে তল্লাশি করে তার কাছে থাকা একটি প্লাস্টিকের থলে থেকে নিম্নলিখিত দেশীয় মারণাস্ত্রসমূহ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়:
১. একটি কাঠের বাটযুক্ত ধারালো বাংলা দা (বাটসহ দৈর্ঘ্য অনুমান ২০ ইঞ্চি)।
২. একটি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ধারালো চাইনিজ চাপাতি (বাটসহ দৈর্ঘ্য অনুমান ১৯ ইঞ্চি)।
৩. একটি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত কালো কভারসহ ছোরা/চাকু (বাটসহ দৈর্ঘ্য অনুমান ৮ ইঞ্চি)।
জব্দকৃত আলামতসমূহ নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিধি মোতাবেক জব্দতালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং পলিয়ে যাওয়া সহযোগীদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামী ও তার পলাতক সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নৌ পুলিশের এমন অপরাধবিরোধী ও ডাকাতি প্রতিরোধমূলক অভিযান অব্যাহত থাকবে।