কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাসের এক জেলের মৎস্য প্রকল্পের মাছ ও ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ‘বের জাল’ চুরির অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার তিন দিন পর অভিযুক্তের রান্নাঘর থেকে পুলিশি অভিযানে জালগুলো উদ্ধার করা হয়; অভিযুক্তের দাবী তাকে ফাসাতে কোন এক মহল এটি করে থাকতে পারে; যা তিনি জানেন না।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামে।
ওই গ্রামের মৃত আঃ বারেকের ছেলে মোঃ হেলাল মিয়া (২৫) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে বিবাদী করে তিতাস থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একই গ্রামের অজিত চন্দ্র দাস।
আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের বসতবাড়ির রান্নাঘর থেকে চুরি যাওয়া জালটি উদ্ধার করেছে।
নয়াচর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশাদার জেলে অজিত চন্দ্র দাস (৪৮) তার বসতবাড়ির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি মৎস্য প্রজেক্টে বের জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত রবিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ১১টা থেকে সোমবার (১৮ মে) রাত ১টার মধ্যে যেকোনো সময় মৎস্য প্রজেক্টের পাড়ে রাখা জাল এবং প্রজেক্টের মাছ চুরি হয়ে যায়।
বাদীর অভিযোগ, বিবাদী মোঃ হেলাল মিয়া একজন পেশাদার চোর এবং তার চুরির উপদ্রবের কারণে এলাকার লোকজন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে না।
গত ১৮ মে রাতে প্রজেক্টে গিয়ে জাল ও মাছ চুরির বিষয়টি টের পাওয়ার পর ভুক্তভোগী অজিত চন্দ্র দাস বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন জালটি হেলালের বাড়িতে রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সাক্ষী গোসাই চন্দ্র দাসকে (৫৫) সাথে নিয়ে হেলালের বাড়িতে গিয়ে তিনি নিজের চুরি যাওয়া বের জালটি দেখতে পান। কিন্তু অভিযুক্ত হেলাল মিয়ার ভয়ে তখন তিনি কোনো কথা না বলে ফিরে আসেন এবং আজ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করার কারণে অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী জেলের এই সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে তিতাস থানা পুলিশের একটি দল নয়াচর গ্রামে হেলাল মিয়ার বসতবাড়িতে অভিযান চালায়।
তল্লাশিকালে হেলালের রান্নাঘর থেকে চুরি যাওয়া ৭০ হাজার টাকা মূল্যের বের জালটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে বাড়িতে নারী সদস্যরা ছাড়া কোনো পুরুষ লোক উপস্থিত ছিলেন না। পরে পুলিশ উদ্ধারকৃত জাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় এবং অভিযুক্ত ও তার পরিবারকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিকে চুরির ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত মোঃ হেলালের পরিবার। থানায় এসে তাদের দাবি, এই জালের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না এবং কীভাবে তা তাদের রান্নাঘরে আসলো সে বিষয়েও তাদের কোনো ধারণা নেই। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোনো কারণে তাদের ফাঁসানো হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন।
এদিকে প্রত্যন্ত গ্রামের এই চুরির ঘটনাটি এবং রাজনৈতিক পরিবারের সংশ্লিষ্টতার কারণে বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তিতাস থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখে আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।