শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়ার অন্যতম জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জামগড়া। একসময় যেখানে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ‘ফিটিংবাজি’ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ছিল নিত্যদিনের ঘটনা, সেখানে জামগড়া পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর থেকে ফিরে এসেছে চিরচেনা শান্তি ও স্বস্তি। তবে এলাকার এই ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের অবৈধ সুবিধা বন্ধ দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ এলাকাবাসী। অপপ্রচারের পেছনে ‘সুবিধা বঞ্চিত’ চক্র অনুসন্ধানে জানা যায়, জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের নিয়মিত টহল এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকার চিহ্নিত অপরাধী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে যারা আগে ফায়দা লুটতো, তারা এখন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। নিজেদের সেই হারানো ‘অবৈধ সাম্রাজ্য’ ফিরে পেতে এবং পুলিশ ক্যাম্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে এই চক্রটি।
পুলিশই জনগণের বন্ধু, বাস্তব চিত্র জামগড়ায়
ফেসবুকের অপপ্রচারকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে জামগড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, জামগড়া পুলিশ ক্যাম্প হওয়ার পর থেকে এলাকার অপরাধের গ্রাফ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে সন্ধ্যার পর ছিনতাইয়ের আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পেত, এখন সেখানে গভীর রাতেও মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।
যেকোনো ছোট-বড় সমস্যায় সাধারণ মানুষ ক্যাম্পে যাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক আইনি সহযোগিতা ও প্রতিকার পাচ্ছেন। মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ায় স্বস্তিতে আছেন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পোশাক শ্রমিকরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যদের কাজ দেখলেই বোঝা যায়, পুলিশ আসলেই গরিবের বন্ধু। অসহায় মানুষের পাশে তারা সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। একটি গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এই ভালো কাজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
জামগড়ার সচেতন মহল মনে করেন, সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যে ক্যাম্পের সুফল ভোগ করছে, তাকে কেন্দ্র করে তৈরি এই সস্তা অপপ্রচার কোনোভাবেই সফল হবে না। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি যেকোনো গুজবে কান না দেওয়ার এবং বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সাথে, পুলিশের এই জনমুখী কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টাকারী অপশক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।