কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার মেঘনায় ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী গ্রুপের ছুড়িকাঘাতে প্রতিবাদী যুবক সাব্বির নামে এজনকে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনার ৩দিনেও কোন আসামীকে গ্রেফতার না করায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ৭২ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভকারী মেঘনাবাসী।
বুধবার (১লা এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মুগারচর কে.আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে থানা ঘেরাও করে এবং পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ কর্মসূচী ও মানববন্ধন করা হয়।
জানা যায়, উপজেলার মুগারচর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় গত ২৬ মার্চ আলী শাহ ভান্ডারীর ওরশ মাহফিল চলাকালে লক্ষণখোলা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে কিশোর গ্যাং গ্রুপের প্রদান নাঈম ও তার সহযোগী অহিদ মিয়ার ছেলে জাহিদুল ও কামাল মিয়ার ছেলে সজিবসহ ১২-১৫জনের বখাটে সন্ত্রাসীরা রাস্তায় মেয়েদের উত্যাক্ত করে আসছিলো।
এসময় গ্রামবাসীর সাথে প্রবাসী বাবুল হোসেনের ছেলে মোঃ শাহ জালাল সাব্বির ও রফিকুল ইসলামের ছেলে জিহাদসহ আরো অনেকেই বাধাগ্রস্ত করেন এবং বখাটেদের তাড়িয়ে দেয়।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে লক্ষণখোলা গ্রামের মোড়ে পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসী নাঈম, বাবুল মিয়া, জাহিদুল, কামাল মিয়া, সজিব, লিল মিয়া ও ফিরোজ মিয়াসহ অজ্ঞাত ১০-১২জন ২৭মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জিহাদ ও সাব্বিরসহ ৫-৭জনকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি ছুড়িকাঘাত করে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ শাহজালাল উরফে সাব্বির নিহত হয় এবং জাহিদ এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় আহত জিহাদের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে থানা মামলা করার পর একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করার ৭২ঘন্টার মধ্যেই আসামী জামিন লাভ করায় এবং প্রধান আসামীসহ জড়িত অন্যান্য আসামীরা এতদিনেও গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয় এবং উপজেলাবাসীর ব্যানারে রাধানগর ইউনিয়নের মুগারচর কে.আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১লা এপ্রিল বিক্ষোভ মিছিল বের করে মেঘনা থানা ঘেরাও করে এবং পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ রমিজ উদ্দিন লন্ডনী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, নিহত সাব্বিরের বোনসহ অনেকে।
বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায়, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা অপরাধীদের গ্রেফতার এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সংগ্রহ কাশেম ভুইঁয়া