ক্রাইম রিপোর্টার: মোঃ রুবেল আহমদ :
২০ মার্চ’ শুক্রবার ২০২৬ খ্রি:
সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের আধার ও পরিবেশগত ঐতিহ্যের প্রতীক ‘ধোপাজান চলতি নদী’ রক্ষায় নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
বিশেষ করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখের আপসহীন ভূমিকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কয়েকশ কোটি টাকার বালু-পাথর খেকো প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় প্রশাসনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বর্তমানে জেলাজুড়ে টক অব দ্য টাউন।
অতীতের কলঙ্কিত অধ্যায় ও প্রশাসনের শুদ্ধি
অনুসন্ধানে জানা যায়, ধোপাজান নদীকে কেন্দ্র করে অতীতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মদদে চলত প্রকাশ্য লুটতরাজ। সেই সময়ে এই নদী থেকে অবৈধ আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন ওসি আবুল কালামের বিরুদ্ধে। এমনকি এই নদী রক্ষায় ব্যর্থতা ও দুর্নীতির দায়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আ. ফ. ম. আনোয়ার খানকে চাকরিচ্যুত হতে হয়েছিল।
প্রশাসনের সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের পর বর্তমান ওসি রতন শেখের বলিষ্ঠ অবস্থান নদী রক্ষায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নদী রক্ষায় ‘দেয়াল’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ওসি
বর্তমানে ধোপাজান নদীতে বালু ও পাথরবাহী অবৈধ নৌকার প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। পুলিশের নিয়মিত টহল ও কড়া নজরদারির কারণে বালু খেকোরা এখন কোণঠাসা। তবে নদী দিয়ে অবৈধভাবে নৌকা পার করে দেওয়ার সুযোগ পেতে ওসির দফতরে নিয়মিত ভিড় করছে স্বার্থান্বেষী এক মহল।
সাংবাদিক পরিচয়ে ‘তদবির’ ও বিড়ম্বনা
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, বালু ও পাথর খেকো চক্রের হয়ে ওসির কাছে নিয়মিত তদবির নিয়ে আসছেন একদল তথাকথিত সাংবাদিক। সংবাদপত্রের ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তারা মূলত বালু মহালের দালালি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টির এই অপচেষ্টা বর্তমানে ওসি রতন শেখের অনমনীয় অবস্থানের কারণে ব্যর্থ হচ্ছে।
থানা সূত্র জানায়, ওসির স্পষ্ট বার্তা ধোপাজান আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় যে কোনো চাপ মোকাবেলা করা হবে। সাংবাদিক হোক বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা আইনের ঊর্ধ্বে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
জনমনে স্বস্তি ও সচেতন মহলের দাবি
পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর মতে, অতীতের সেই লুটপাটের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের এমন কঠোরতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নদীর তলদেশ সুরক্ষা এবং পাড় ভাঙন রোধে প্রশাসনের এই ‘লৌহমানব’ ইমেজ বালু-পাথর খেকোদের রুখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।
সচেতন মহলের দাবি, ধোপাজান নদী রক্ষায় যারা সাংবাদিক পরিচয়ে দালালি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে প্রশাসনের এই কঠোরতা যেন কোনোভাবেই শিথিল না হয়, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।