শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া বটতলা এলাকায় – সাজিদ হোমিও হল নামে একটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করে নিজেকে ডা. পরিচয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন মো. এনামুল নামের এক ব্যক্তি। তবে তার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রতিষ্ঠানে নেই বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, নেই ড্রাগ লাইসেন্স; অথচ তিনি প্রকাশ্যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিক্রি করছেন এবং ভিজিটিং কার্ডে নিজেকে ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
ভিজিটিং কার্ডে দেখা যায়, তিনি নিজের নামের আগে “ডা.” ব্যবহার করেছেন এবং “D.H.M.S (B.H.B) Dhaka” উল্লেখ করেছেন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, তার নামে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)–এর কোনো নিবন্ধন পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, MBBS বা BDS ডিগ্রি এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়া কেউ নিজের নামের আগে “ডা.” (Doctor) ব্যবহার করতে পারেন না। ২০২১ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা “ডা.” উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না। তারা চাইলে “Integrated Physician”, “Complementary Physician” বা “Alternative Medicine Practitioner” ধরনের পদবি ব্যবহার করতে পারেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
স্বরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট দোকানটিতে কোনো ট্রেড লাইসেন্স বা ড্রাগ লাইসেন্স প্রদর্শন করা হয়নি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন থাকা বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রি করলে রোগীরা ঝুঁকিপূর্ণ বা অননুমোদিত ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. এনামুল বলেন, তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সনদপত্র রয়েছে এবং সেই ভিত্তিতেই তিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে তিনি ডা. পদবি ব্যবহার করা আইনগতভাবে বৈধ কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, গ্রাম ও শহরতলিতে অনেক সময় সাধারণ মানুষ ভিজিটিং কার্ড বা সাইনবোর্ড দেখে কাউকে ডাক্তার মনে করেন। এতে ভুল চিকিৎসা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এমনকি রোগীর জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অনেক মানুষ না বুঝে এসব জায়গায় চিকিৎসা নিতে যায়। সরকার যদি এগুলো তদারকি না করে, তাহলে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।