বিশেষ প্রতিনিধি:
অদ্য ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বুধবার, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জুলাই যোদ্ধা শহীদ হাফেজ মাবরুর হোসেন রাব্বীর কবর জিয়ারত করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি ইসমাঈল সিরাজী। এসময় তিনি শহীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শহীদের বাবার খোঁজখবর নেন। কবর জিয়ারত শেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন—জুলাই শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন থেকে বিচ্যুতি মেনে নেওয়া হবে না।
মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, “জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেখানে জনপ্রত্যাশার নির্বাচন হওয়াটাই তাদের রক্তের প্রতি প্রকৃত সম্মান। এই রক্তের বিনিময়ে যদি নির্বাচন সুষ্ঠু না হয়, তবে তা হবে সরাসরি গাদ্দারি।” তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নহীন ও বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রশাসনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়—এটি শহীদদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার বাস্তব প্রতিফলন। তাই কোনো রকম অনিয়ম, পক্ষপাত বা কারসাজি হলে তা শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননা হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের ভূমিকা হবে মূল চাবিকাঠি।”
কবর জিয়ারতের সময় মুফতি ইসমাঈল সিরাজী শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “হাফেজ মাবরুর হোসেন রাব্বীসহ জুলাইয়ের সকল শহীদের ত্যাগ আমাদের জন্য পথনির্দেশনা। তাদের আদর্শকে সামনে রেখেই আমাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তা এগোতে হবে।”
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। মানুষ যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করাই প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সব পক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
শেষে তিনি বলেন, “জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে কোনো আপস নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনই হবে নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার—এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।”