টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
শেষ মুহূর্তে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন উত্তরবঙ্গের ঘরমুখো মানুষজন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে ঘরমুখো হচ্ছে মানুষ। এতে করে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে।যানবাহনের চাপ থাকলেও মহাসড়কে নেই যানজট। স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যানবাহন। প্রচন্ড রোদে যানবাহনে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ।
যমুনা সেতু ওপর দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ হাজার ৩৩৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৩৮ লাখ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা৷
ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন।যাত্রীরা যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মহাসড়কে বাসের চেয়ে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলেই বেশি দেখা গেছে। এ ছাড়াও বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।যাত্রীরা পরিবহন করছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার।গণপরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক পিকআপ ও বাসের ছাদে গন্তব্যে পৌছাচ্ছে।
রুহুল আমিন নামের এক যাত্রী বলেন, বাড়ি যেতে আমাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। এলেঙ্গা পর্যন্ত আসলাম ভালো ভাবেই আসলাম। গাড়ি স্বাভাবিক গতিতেই চলতেছে। পরিবহন সংকটের জন্য অনেকেই ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন।
হৃদয় নামে এক যাত্রী বলেন, আমি বগুড়া যাবো। ঢাকা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসলাম কোন যানজট পাইনি। স্বস্তিতেই বাড়ি যাচ্ছি।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দিনগত রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮ হাজার ৩৩৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫০ টাকা।
আজ শনিবার (২৯ মার্চ) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যমুনা সেতু সাইট অফিসর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল আরো জানান, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এছাড়া দুইপাশেই মোটরসাইকলের জন্য আলাদা ২টি করে বুথ রয়েছে। এতে নির্বিঘ্নে মানুষ যাতায়াত করতে পারছে। গত ২৪ ঘন্টায় ৯ হাজার ১৬৩ টি মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষকে স্বস্তি দিতে সাড়ে ৭’শ পুলিশ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত এবং জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য তীব্র গরমকে উপেক্ষা।