শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
আশুলিয়ার জামগড়া, রূপায়ণ মাঠ, বটতলা, মোল্লা বাজার, মোল্লাবাড়ি – ন্যাশনাল স্কুলের গলিসহ একাধিক এলাকায় প্রতিনিয়ত প্রকাশ্য দিবালোকে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই দুর্বৃত্তরা অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে, আর রাত নামলেই শুরু হচ্ছে ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী তৎপরতা স্থানীয় বাসিন্দারা জানান গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা দা, চাপাতি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িঘরের জানালা, দোকানের শাটার ভেঙে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
এসব ঘটনায় পথচারী নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কখনো কখনো প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যেও গোলাগুলিতে জড়াচ্ছে সন্ত্রাসীরা, অথচ লাগাতার এসব গুরুতর ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত অপরাধীদের কার্যকরভাবে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে নামমাত্র অভিযান চালানো হলেও তা টেকসই কোনো ফল বয়ে আনছে না।
অপরাধ দমনে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সাহসী ও পেশাদার উদ্যোগ যার অভাব স্পষ্ট বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সদস্য দাবি করেছেন, কোনো কোনো অভিযানের পর কিছু পুলিশ সদস্য গোপনে সেই এলাকাতেই গিয়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্তৃক তথ্যদাতাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ ভয় পেয়ে আর পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আগ্রহী হচ্ছেন না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন অপরাধীরা অস্ত্র হাতে ঘোরে, আমরা কিছু বলার সাহস পাই না। তথ্য দিলে পরে বিপদে পড়তে হয় – এই ভয়ে সবাই চুপ।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, বরং অপরাধী চক্রের শিকড় চিহ্নিত করে পরিকল্পিত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণই পারে আশুলিয়াকে এই সন্ত্রাসী বলয় থেকে মুক্ত করতে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।