আব্দুল্লাহ আল আমিন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ গত এক বছরে শুধু রংপুর জেলাতেই ৬৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একশ’রও বেশি নারী ও শিশু নির্যাতনসহ নানা অপরাধে জনমনে ভয় আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ ডিসেম্বর রংপুরের তারাগঞ্জে টাকার জন্য এক দম্পতিকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এক যুবক। ১০ আগষ্ট একই উপজেলার বুড়িরহাটে ভ্যানচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন রুপলাল ও প্রদীপ দাস নামে দুই ব্যক্তি। গত ২০২৫ সালে রংপুর জেলায় এরুপ ৬৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া একই সময়ে ৩৭টি ধর্ষণ, ১০টি অপহরণ, ৫৫টি চুরি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১শত ৪টি। এতে উদ্বেগ বেড়েছে জনমনে।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চপল মিয়া বলেন, কিভাবে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটলো। আমরা জানতে চাই ও নিজেদের নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। আমাকেও তো মেরে ফেলতে পারে, জঙ্গলের আশেপাশে আমার বাড়ি। আমাকে মেরে ফেলবে না তার কোন গ্যারান্টি আছে।
এদিকে চুরি, ছিনতাইয়ের মত অহরহ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রংপুর সুপার মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি জুয়েল মিয়া বলেন, বেতপট্টি মোড়ে অনেক স্বর্ণের দোকান থাকায় এখানে সবসময় নিরাপত্তা জন্য পুলিশ টহল থাকতো। কিন্তু প্রায় এক বছর থেকে দেখা যাচ্ছে কোন প্রশাসনের লোক এখানে দ্বায়ীত্ব পালন করেনা। দিনেও করে না, রাতেও করে না। যার জন্য পরপর তিন চারটা ঘটনা ঘটলো।
ইদানিং অন্য স্থানের ন্যায় প্রেস ক্লাব মার্কেটে দোকান থেকে মোবাইল ও টাকা পয়সা চুরির ব্যপারে আরিফ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা দেখেছি এর আগে জাহাজ কোম্পানি মোড়ে নবরুপা টেলিকমে চুরি হওয়ার পর যেভাবে প্রশাসন, সিআইডির লোকজন এসে ফরেনসিক নিয়েছে, তারা মামলা রুজু করেছে কিন্তু ফলপ্রসূ কোন রেজাল্ট আমরা পাইনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট বাহিনী গুলোকে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের।
এ বিষয়ে রংপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, আমরা দেখছি আইশৃঙ্খলার ব্যপক অবনতি হয়েছে। আমাদের মনে হয় এখন দ্রুত সময় এই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিটাকে একটা কঠোর অবস্থানে নিয়ে আসা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি ভালো না হয় সু-দুর ভবিষ্যতে আমরা শুধু রংপুর নয় সারা বাংলাদেশে ভয়াবহ চিত্র সৃষ্টি হতে পারে।
যদিও পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব সময় কাজ করছেন তারা।
রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, এখন আমরা টহল কার্যক্রম রাত্রী কালীন যেটা হয় সেটা চলমান রয়েছে। আপনি দেখে থাকবেন রাতে রংপুরের ঐতিহ্য আছে গরু চুরি। কিন্তু বিগত দুইমাস থেকে যে শীত শুরু হয়েছে সেখানে চুরির সংখ্যাটা খুবি কম এবং সেটার সুফল পাচ্ছি। আমি মনে আমাদের টহলে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আর যেগুলো খুনের ঘটনা ঘটতেছে আমরা আসামীদের ধরতে সফল হয়েছি। কোন অবস্থাতেই আইনের ফাক-ফকর দিয়ে কোন অপরাধী পার পাবেনা বলে আমরা আপনাদের পাশাপাশি জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই।
এদিকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিনে ও রাতে পর্যাপ্ত পুলিশি টহলের পাশাপাশি বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালুর দাবি জানান জেলাবাসী।