বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে এক সাথে কাজ করার আাহবান সুনামগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) অপপ্রচার পেরিয়ে উন্নয়নের পথে: তিতাস-হোমনার নতুন আস্থার নাম সেলিম ভূইয়া উপসাগরীয় সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ও ওমান ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ESCAP এর ৮২তম অধিবেশনে টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানালেন ফকির মাহবুব আনাম এবছর ৬টি পাটকল লীজে দেওয়া হবে,বাড়াবে কর্মসংস্থান — বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না: ভূমি প্রতিমন্ত্রী এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৬ জনকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ ও সিটিটিসি

হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী ফয়সালের ব্যাংক হিসাবে রহস্যজনক লেনদেন!

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর এই হামলায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাডার ফয়সাল করিম মাসুদ, ছদ্মনাম দাউদ বিন ফয়সাল। তাকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি তার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনও এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় তদন্তের আওতায়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ছাত্ররাজনীতিতে ফয়সাল ছিলেন প্রভাবশালী নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং আদাবর থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে ঝটিকা মিছিল, গোপন বৈঠক ও চোরাগোপ্তা হামলার সঙ্গে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ফয়সালের রাজনৈতিক উত্থান ছিল দ্রুত। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি শুধু পদধারী নেতা নন, প্রভাব বিস্তারে দক্ষ সংগঠক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। এই প্রভাবের পেছনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার প্রত্যক্ষ আশীর্বাদ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং পলাতক কামালের বিশ্বস্ত অনুসারী হিসেবে ফয়সালের পরিচিতি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, গুলিবর্ষণের কয়েক দিন আগে ৯ ডিসেম্বর একটি সাংস্কৃতিক বৈঠকে ফয়সালকে হাদির একেবারে কাছেই বসে থাকতে দেখা যায়। তদন্তকারীদের মতে, মানবতাবাদী ও উদারচিন্তার অধিকারী হাদির আস্থার সুযোগ নিয়েই হামলার আগে তিনি তার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। এ থেকেই হামলার পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলছে।

হাদির ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে ফয়সালের ব্যাংক হিসাব নিয়ে পাওয়া তথ্য তদন্তে নতুন মোড় দিয়েছে। একাধিক ব্যাংকে থাকা তার হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। এর একটি অংশ এসেছে বিদেশ থেকে। এসব অর্থ বৈধ চ্যানেলে এসেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি দেশের ভেতরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও তার হিসাবে অর্থ প্রবাহের তথ্য মিলেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারা এই অর্থ দিয়েছেন এবং কী উদ্দেশ্যে দিয়েছেন, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়। বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ফয়সালের নিয়মিত আর্থিক যোগাযোগের তথ্যও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ভারতে পলাতক কামালের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার তথ্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের এই যোগসূত্র হামলার পেছনের বৃহত্তর পরিকল্পনা বুঝতে সহায়ক হতে পারে। ফয়সালকে গ্রেপ্তারে সরকার ইতোমধ্যে ৫০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
এর আগেও ফয়সালের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর রাজধানীর আদাবর এলাকায় ডাকাতির সময় আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়। গ্রেপ্তারের পর দ্রুত হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয় এবং চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১২ আগস্ট তার জামিনের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়। এই জামিন প্রক্রিয়া নিয়ে আইন অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

জামিনে থাকা অবস্থায় একজন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীর ওপর এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ফয়সালের নাম উঠে আসায় আইনের শাসন নিয়েও জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা তার জামিনকালীন চলাফেরা ও যোগাযোগ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন।
পরিবার ও প্রযুক্তিগত ভূমিকা গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ফয়সালের পরিবারও আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। যদিও তার বাবা একজন ছোট ব্যবসায়ী, তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রভাব বিস্তারে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর পরিবারের দুই সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ ফয়সাল হামলার আগেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভ করেন এবং ঘটনার দিন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেননি। তদন্তকারীদের মতে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত হামলা। নিরাপদে তাকে সরিয়ে নিতে ঘটনাস্থলের আশপাশে একটি রেসকিউ টিমও সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফয়সাল ‘অ্যাপল সফট আইটি’ নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মালিক। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের সদস্য হিসেবেও তার নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আইসিটি প্রশিক্ষণ, সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবা দিয়ে থাকে। এসব ব্যবসায়িক সংযোগও এখন তদন্তের অংশ।

হাদির ওপর সশস্ত্র হামলাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখছে না। বরং আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এটি নির্বাচনি পরিবেশ ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা পেলে দ্রুতই তদন্তে অগ্রগতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102