জাহিদ হাসান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজধানী ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ফরিদা খানম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন শেষে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক জেলার নেতৃত্বে আসায় প্রশাসনিক মহলে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকা জেলা দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে দায়িত্ব পালন করা যে কোনো জেলা প্রশাসকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভূমি প্রশাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় এই পদে। সেই প্রেক্ষাপটে ফরিদা খানমের নিয়োগকে সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। দ্রুত, সহজ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
নতুন ডিসি হিসেবে ফরিদা খানম প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাহসিকতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে এবং সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে সেবা প্রদানের গতি বাড়ানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকার নাগরিক সেবা উন্নয়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে নতুন ডিসির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ, ফাইল নিষ্পত্তিতে গতি আনা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া দ্রুত নগরায়নের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ—যেমন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ এবং জননিরাপত্তা—সমাধানে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ফরিদা খানম এসব বিষয়ে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়াবেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সকল সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন ও কার্যকর প্রশাসন সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ফরিদা খানমের নেতৃত্বে ঢাকা জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে। দ্রুত জনসেবা প্রদান, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনার মাধ্যমে তিনি একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।