এম হোসাইন আহমদ, বিশেষ প্রতিবেদকঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই–পরবর্তী আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র ওসমান হাদী রাজধানীর বিজয়নগর–পল্টন এলাকায় আজ দুপুরে সশস্ত্র হামলায় গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলার পরপরই তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সঙ্গে থাকা কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা গেছে, দুই থেকে তিনজন যুবক মোটরসাইকেলে এসে হঠাৎ কাছ থেকে গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত সরে পড়ে। ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়ায় হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও আশপাশের মোবাইল টাওয়ার ডেটা বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে।
আব্দুল্লাহপুরে শুরু হওয়া নির্বাচনী গণসংযোগ থেকে ফিরে দুপুরের দিকে তিনি বিজয়নগর এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওসমান হাদী তরুণদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তার সংস্কারমুখী রাজনৈতিক অবস্থান ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার ধারাবাহিক প্রচারের কারণে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, মানবাধিকার রক্ষা ও দমন–পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছিলেন সক্রিয়।
আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছিলেন। তার অনুসারীদের অভিযোগ, নির্বাচনী মাঠে তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
হামলার ঘটনার পর পল্টন, শাহবাগ ও প্রেস ক্লাব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সর্বশেষ ক্লিনিক্যাল আপডেট
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওসমান হাদীর হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিক কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) প্রদান করলে তার হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, যদিও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন—এ ধরনের প্রত্যাবর্তন অনেক সময় স্বল্পস্থায়ী হতে পারে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, গুলিটি তার মিডব্রেইন অংশে আটকে রয়েছে—যা মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফ–সাপোর্ট’ কেন্দ্র। শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন, দেহের স্বয়ংক্রিয় নড়াচড়া ও মৌলিক স্নায়বিক কার্যক্রম এই অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এই স্থানে গুলিবিদ্ধ হওয়া রোগীকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ফেলে।
গুলির আঘাতে মস্তিষ্কে তীব্র ফোলাভাব সৃষ্টি হওয়ায় চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে ডিকমপ্রেসিভ ক্রেনিওটমি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ প্রক্রিয়ায় খুলির একটি নির্দিষ্ট অংশ সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়, যাতে মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমে এবং মারাত্মক ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. আহাদ জানিয়েছেন, সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হলেও ওসমান হাদীর শারীরিক অবস্থা এখনো চরম সংকটাপন্ন। চিকিৎসকেরা তার জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত।