সংবাদ প্রতিবেদন:
জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা উসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ইসমাঈল সিরাজী। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিজয়নগরের মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।
মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, “উসমান হাদীকে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে শংকিত করেছে। গুলিবর্ষণকারী এবং যেসব ব্যক্তি এ হামলার নির্দেশ দিয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা বহুবার সতর্ক করেছি যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্রধারী গোষ্ঠীকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পতিত ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় সরকারের দুর্বলতা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাদের প্রচারণার সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন গুরুতর প্রশ্নের মুখে।’’
মুফতি সিরাজী বলেন, “দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা মাঠে নামছেন, সাধারণ মানুষ নির্বাচনী প্রচারণায় জড়িত হচ্ছেন—এ সময় এ ধরনের হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, রাষ্ট্রের ওপরও আক্রমণ। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, নির্দেশদাতা থেকে শুরু করে প্রত্যক্ষভাবে যারা গুলি চালিয়েছে—সবার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যতদিন দেশে অবৈধ অস্ত্রের চলাচল বন্ধ না হবে, ততদিন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। এই হামলা সামগ্রিকভাবে দেশের ভবিষ্যৎ ও নির্বাচনকে বিপন্ন করারই চেষ্টা।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, “উসমান হাদীর ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র রয়েছে এর পেছনে। সরকারকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
বিবৃতির শেষে তিনি আহত উসমান হাদীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।