নিজস্ব প্রতিনিধিঃ অদ্য ৩০ নভেম্বর ২০২৫, রবিবার— ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিল থেকে ফেরার পথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক জননেতা মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, এবং সঞ্চালনা করেন সমন্বয়কারী আলহাজ্ব আমান উল্লাহ।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি ইসমাঈল সিরাজীকে কেন্দ্র করে এই নির্বাচনী সভায় এলাকাবাসীর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য জননেতা অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন—
“জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে। এই দেশে দীর্ঘদিন ধরে জুলুম, শোষণ, অন্যায়-অবিচার চলছে। জাতির সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা— একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আমরা ‘সবুজ বাংলা’, ‘শ্যামল বাংলা’, ‘ডিজিটাল বাংলা’— এমন বহু স্লোগান শুনেছি; তবে প্রকৃত পরিবর্তন কোনো দল আনতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশে বহু নেতা পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু নীতির পরিবর্তন হয়নি। দেশের মানুষ এখন নীতিনৈতিকতার ভিত্তিতে প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে চায়। ইসলামী মূল্যবোধই পারে এ দেশের মানুষকে ন্যায় ও নিরাপত্তার পথে ফিরিয়ে আনতে। তাই দেশের ও মানবতার কল্যাণে হাতপাখায় ভোট দিয়ে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বিজয়ী করতে হবে।”
অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যে ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা, ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, জনকল্যাণমুখী রাজনীতি এবং মানবিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শুধু অবকাঠামো নয়— প্রয়োজন সৎ নেতৃত্ব ও আদর্শিক দিকনির্দেশনা, যা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা মুফতি ইসমাঈল সিরাজী। তিনি বলেন—
“নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে। জনগণের মৌলিক দাবি, জননিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানে কেউ আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের প্রতিটি মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”
তিনি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন—দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গঠন শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা ও সেবামুখী রাজনীতি।
নির্বাচনী মাঠে জনগণের আস্থা অর্জনে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন ব্যক্তির নয়, নীতির। দেশের মানুষ নীতির রাজনীতি দেখতে চায় এবং সেই নীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”
সভায় উপস্থিত দায়িত্বশীলরা
নির্বাচনী সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জননেতা মুহাম্মাদ ওমর ফারুক, মুফতি আবু মুছা নেছারী, সহকারী সমন্বয়কারী মুহাম্মাদ জোবায়ের হোসাইন এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ তাঁরা প্রত্যেকে হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে সম্মিলিত প্রচারণা জোরদার করার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
জনগণের প্রত্যাশা
সভায় সাধারণ উপস্থিতদের মধ্যেও পরিবর্তনের প্রত্যাশা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্য, অপরিকল্পিত নগরায়ন, সড়ক-নিরাপত্তাহীনতা, জলাবদ্ধতা ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় ভুগছেন তারা। গণমানুষের ভাষায়—
“আমরা এবার এমন একজন প্রতিনিধিকে চাই, যিনি নীতি-নৈতিকতা মেনে সত্যিকারের সেবা করবেন।”
উপসংহার
নির্বাচনী সভা শেষ হয় হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রচার চালানোর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের ঘোষণামতে— দেশের ন্যায়ভিত্তিক ভবিষ্যৎ গঠনে এবং প্রকৃত পরিবর্তন আনতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ —ই আজ জনগণের কাছে একটি বিশ্বস্ত বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।