নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
এমএএম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল ও লর্ড ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নারায়ণগঞ্জ-৪ ফতুল্লা আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল-মাদানী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম NAKEE TV–তে প্রচারিত একটি মিথ্যা, বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“NAKEE TV- নামক ফেসবুক পেজের প্রতিবেদনে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন এবং ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার গভীর ষড়যন্ত্র। আমার দীর্ঘদিনের সুনাম নষ্ট করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
কানাডা ভ্রমণ প্রসঙ্গ ও আর্থিক লেনদেন
মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল-মাদানী জানান, কয়েক মাস আগে মোঃ আজিজুর রহমান কানাডা যাওয়ার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রাথমিকভাবে ২,০০,০০০ টাকা তার মাধ্যমে অন্য একটি এজেন্সিতে জমা করেন। পরবর্তীতে ভিসা প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে ভ্রমণ স্থগিত করা হলে জমাকৃত অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তিনি মানবিক বিবেচনায় নিজের নামে দুটি সিকিউরিটি চেক প্রদান করেন।
তিনি বলেন,
“চেকের বিপরীতে আমি ইতোমধ্যে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেছি এবং আরও ৫০ হাজার টাকা প্রদানের তারিখ দিয়েছিলাম, তা নিতে এসে সম্পূর্ণ টাকা দাবি করেন। এবং নির্ধারিত দিনে সামান্য সময় চাওয়ায় তারা আমার অফিসে এসে অশালীন আচরণ, হুমকি, গালিগালাজ ও মারামারির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করে।” বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সূরা করা সম্ভব ছিল, তেনার বক্তব্য পরিষ্কার যে আমার কাছে কেউ যদি টাকা পয়সা পাওনা থাকেন অবশ্যই অফিসে এসে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তা পরিশোধ করিয়ে দিতে আমি বদ্ধ পরিকর।
ঘটনার পর তিনি পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যেখানে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।
ষড়যন্ত্রের মূল নির্দেশনায় থাকা ব্যক্তির নাম
মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল-মাদানী দাবি করেন,
“উল্লেখিত অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর পেছনে মোহাম্মদ শাহজাহান আল হাবিবি মূল প্ররোচনাকারী হিসেবে কাজ করছেন বলে দৃঢ়ভাবে প্রতীয়মান। তিনি বিদেশে মানুষ পাঠানোর নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন—এমন অভিযোগ বহু মানুষের কাছ থেকে শুনেছি এবং বেশ কিছু প্রাথমিক তথ্যও পাওয়া গেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“তার কর্মকাণ্ড মানব পাচার সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে কয়েকটি পক্ষ অভিযোগ করেছে। ঠিক এই কারণেই তিনি নিজের দায় আড়াল করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও তৈরি ও ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“এ সকল অভিযোগের তদন্ত রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমি নিজে আইনগত প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবো। তবে আমাকে নিয়ে মিথ্যা ভিডিও বানিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতি করার অপচেষ্টা বরদাশত করবো না।”
ব্যবসায়িক সততা, রাজনৈতিক নীতি ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকার
মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল-মাদানী বলেন,
“আমি ১৮ বছর ধরে সুনাম ও সততার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করছি। জনগণের ভালোবাসাকে শক্তি হিসেবে নিয়ে রাজনীতির পথে এসেছি। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী চক্র আমার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিচ্ছে।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন,
“মিথ্যা প্রচার আমাকে দমাতে পারবে না। সত্য, স্বচ্ছতা ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রেখে আমি জনগণের সেবায় কাজ চালিয়ে যাবো। যারা পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে—তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শেষে তিনি বলেন,
“সত্য কখনো চাপা থাকে না। ইনশাআল্লাহ, এলাকার মানুষের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে সামনে অগ্রসর হবো। মিথ্যা ভিডিও, উদ্দেশ্যমূলক অপবাদ বা ষড়যন্ত্র—কিছুই আমাকে থামাতে পারবে না।”