শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
ঢাকার আশুলিয়ায় পালিত মেয়েকে দেখতে গিয়ে সাবেক স্বামী ও তাঁর স্বজনদের হাতে এক নারী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁকে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবিনা ইয়াসমিন (৩৮)। এ ঘটনায় সাবেক স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
সাবিনার অভিযোগ, সংসারে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় এক বছর আগে মো. জাহিদ হাসান শিকদারের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের পালিত ৯ বছর বয়সী মেয়েটি বর্তমানে জাহিদের কাছে রয়েছে।
গত ২৮ জুলাই বিকেলে মেয়েকে দেখতে বাইপাইল নতুনপাড়া এলাকার বেপজা স্কুলসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে যান সাবিনা। সেখানে জাহিদ হাসানসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাবিনা বলেন, মারধরের একপর্যায়ে তাঁর গলায় দুই হাত দিয়ে চাপ দেওয়া হয়। এতে তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না। হামলায় শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত পান। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগে সাবেক স্বামী মো. জাহিদ হাসান শিকদার (৪২), তাঁর স্ত্রী রিয়া হাসান (৩২), মো. রায়হান সরদার (২২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা সবাই বাইপাইল নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সাবিনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, সাবিনার সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে আইনি ও সামাজিকভাবে বিচ্ছেদ হয়েছে। দেনমোহরসহ অন্যান্য বিষয়ও মীমাংসা হয়ে গেছে। তাঁদের পালিত মেয়েকে কেন্দ্র করেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জাহিদ হাসানের দাবি, মেয়েটিকে আটকে রাখার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। মেয়েটি স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে রয়েছে এবং মায়ের কাছে যেতে চাচ্ছে না। তাঁর দোকানে এসে সাবিনার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটিকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত বলে দাবি করেন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন,এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।