মোঃ সুরুজ আলী, রাজশাহী :
মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সার্বিক চিত্র। গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জনাব মো. শাহ আলম খানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আল মামুন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসেছে এক ইতিবাচক পরিবর্তন।
একসময় যেখানে কারা-অভ্যন্তরের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভের শেষ ছিল না, সেখানে বর্তমানে স্থান পেয়েছে শৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক পরিবেশ। পরিবর্তনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো প্রশাসনিক ন্যায়পরায়ণতা এবং বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
কারাগারে থাকা একাধিক কারাবন্দীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিগত দিনে যেকোনো ছোটখাটো বা ভিত্তিহীন অভিযোগে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই বন্দিদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। কিন্তু নতুন সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই পুরোনো চিত্র আমূল বদলে গেছে।
এক বন্দি জানান, “আগে কোনো অভিযোগ এলেই আমাদের ওপর নির্যাতন করা হতো। কিন্তু বর্তমান সিনিয়র জেল সুপার আসার পর সে নিয়ম বন্ধ হয়েছে। এখন কোনো ঘটনা ঘটলে সঠিক তদন্ত করা হয় এবং কোনো শারীরিক নির্যাতন ছাড়াই নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য উপায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য।”
শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানোই নয়, বন্দিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজর দিয়েছেন নতুন জেল সুপার। বন্দিদের দেওয়া খাবারের গুণগত মান ও স্বাদে দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে।
সময়মতো সুযোগ সুবিধা চিকিৎসাসেবা, স্বজনদের সাথে যোগাযোগসহ অন্যান্য বরাদ্দকৃত সুবিধা নির্ধারিত সময়েই বন্দিরা হাতে পাচ্ছেন।
বন্দিদের অপরাধ জীবনের অবসান ঘটিয়ে সুনাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে নিতে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কারাগারকে শুধু ‘শাস্তির জায়গা’ হিসেবে না দেখে সত্যিকারের ‘সংশোধনাগার’ হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান কারা কর্তৃপক্ষ যে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে, বন্দিদের মুখে তার প্রশংসা এখন সর্বত্র। মাত্র আড়াই মাসের এই আমূল পরিবর্তন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারকে একটি মডেল কারাগার হিসেবে গড়ে তোলার পথ দেখাচ্ছে।