আলী আহসান রবি :
১০ জুলাই ২০২৬
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চেতনাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি’র কুমিল্লায় শুভ আগমন উপলক্ষে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), কুমিল্লা মহানগর শাখা এবং কুমিল্লার সর্বস্তরের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী, এমপি।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মনিরুল হক চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব সাবিনা আলম। এছাড়া জাসাস ও স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জনাব উদবাতুল বারী আবু (চেয়ারম্যান, কুমিল্লা উত্তর কর্তৃপক্ষ ও সভাপতি, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি), জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপু (আহ্বায়ক, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা মহানগর বিএনপি), জনাব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা), এবং জনাব জাভেদ আহমেদ মাসুদ (যুগ্ম আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস, কেন্দ্রীয় কমিটি)।
অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন জাসাস কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি ডা. আফশান আনিস এবং সামগ্রিক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল হক সোহেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি বলেন, সংস্কৃতি হলো একটি জাতির দর্পণ। আমাদের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। অপসংস্কৃতির ভিড়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করতে জাসাসসহ সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিল্পকলার চর্চা আরও বেগবান করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধান বক্তা জনাব মনিরুল হক চৌধুরী, এমপি তাঁর বক্তব্যে কুমিল্লার গৌরবময় সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা স্মরণ করে বলেন, গুণী শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের মূল্যায়নের মাধ্যমেই একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের বরণ এবং উদ্বোধনী নৃত্যের পর পরিবেশিত হয় জাতীয় সংগীত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার মূল আকর্ষণ ছিল দেশাত্মবোধক দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, নৃত্য আলেখ্য ‘কুমিল্লা আমার কুমিল্লা’, সমবেত আবৃত্তি, এবং নজরুলের ঐতিহাসিক গণসংগীত ‘কারার ঐ লৌহ কপাট’। এছাড়াও কিংবদন্তি সুরকার শচীন দেব বর্মণের কালজয়ী গান ‘ঝিল মিল ঝিল মিল ঝিলের জলে’র সাথে চমৎকার নৃত্য এবং ঐতিহাসিক ‘জুলাই আন্দোলন’ নিয়ে একটি বিশেষ ডিসপ্লে পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের ব্যাপকভাবে আলোড়িত করে। গুণী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানের পর অতিথিবৃন্দের বক্তব্য এবং সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে এই আনন্দঘন ও সফল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে।