সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
জগতপুর ইউনিয়নসহ সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানালেন হাজী মকবুল হোসেন সংহতির নিদর্শন হিসেবে কুয়েতকে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যসামগ্রীর শুভেচ্ছা চালান হস্তান্তর করল বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের প্রতি তথ্যমন্ত্রীর সংহতি প্রকাশ টেকনাফে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের গোপন আস্তানায় বিজিবি’র হানা এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন ডিএনসিসির প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ এডিবির দ্রুত এবং সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সাড়া ও অর্থায়ন দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ——- অর্থ মন্ত্রী দেশের সম্পদ মাটির নীচে রেখে আমদানি ভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রী

বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় যুগান্তকারী অধ্যাদেশ ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ ২০২৬’ জারি

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি :

ঢাকা, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ শুক্রবার

দেশের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যাদেশ ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বুধবার (৭ জানুয়ারি) গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৬’-অধ্যাদেশটিও গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এই দুটি নতুন অধ্যাদেশ দেশের বনসম্পদ, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে পরিবেশগত নিরাপত্তা জোরদার হবে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ প্রকৃতি সংরক্ষণে সহায়ক ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে বলে আশা করা যায়।

নতুন অধ্যাদেশে নয়টি অধ্যায়ে বন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ রক্ষা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা, রক্ষিত এলাকা ঘোষণা ও ব্যবস্থাপনা, পারমিট লাইসেন্স ও পজিশন সার্টিফিকেট, আমদানি-রপ্তানি, বন্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্র, বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন, অপরাধ জরিমানা ও দন্ড ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এতে বন্যপ্রাণীর বাংলা, ইংরেজি ও বৈজ্ঞানিক নাম এবং গোত্র পরিচিতি সম্বলিত তফসিলও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী রক্ষায় সরকার বন অধিদপ্তরের অধীন বন্যপ্রাণী উইং নামে একটি উইং প্রতিষ্ঠা করবে। সরকার বন্যপ্রাণী কল্যাণ ও সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে দেশের বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করতে হবে এবং অবস্থান অনুযায়ী মহা বিপন্ন, বিপন্ন, সংকটাপন্ন ও প্রায় বিপদাপন্ন বন্যপ্রাণীর তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ করতে হবে। উল্লেখিত তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিভিন্ন প্রকার বন্য প্রাণীর ঝুঁকিহ্রাস, কল্যাণ, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও করিডোর চিহ্নিত ও সুরক্ষিত রাখতে হবে। বন্য প্রাণীর কল্যাণ সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিষয়ে, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব নিরসনে ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে, বন্য প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ রোধে এবং বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা, ক্ষতিপূরণ প্রদান, আইনি প্রক্রিয়া, উদ্দীপণামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা গ্রহণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উদ্ধারকৃত ও আহত বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় নির্দেশিকা প্রণয়ন করতে হবে এবং বন্যপ্রাণী শুশ্রুষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী, বন ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও কল্যাণ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা এবং দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ড গঠন করতে হবে। অভিজ্ঞ বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ বিশারদগণের সমন্বয়ে একটি বৈজ্ঞানিক কমিটি গঠন করতে হবে। সরকার বন্যপ্রাণীর কল্যাণ, সংরক্ষণ, উদ্ধার ও উদ্ধার পরবর্তী শুশ্রূষা নিশ্চিতকরণ, পুনর্বাসন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রজনন, বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, জনসচেতনতা ইত্যাদি কাজের জন্য বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করতে হবে।
ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণীর বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাট-বাজার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ যাবে না। কোনো ব্যক্তি বন্যপ্রাণীর প্রতি কোনো নিষ্ঠুর আচরণ করলে অধ্যাদেশ অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102