সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
ফিলিস্তিনের প্রতি তথ্যমন্ত্রীর সংহতি প্রকাশ টেকনাফে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের গোপন আস্তানায় বিজিবি’র হানা এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন ডিএনসিসির প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ এডিবির দ্রুত এবং সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সাড়া ও অর্থায়ন দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ——- অর্থ মন্ত্রী দেশের সম্পদ মাটির নীচে রেখে আমদানি ভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রী নিরাপদ হাট ব্যবস্থাপনা ও জাল টাকা প্রতিরোধে সরকারের সর্বাত্মক ব্যবস্থা রয়েছে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী কুমিল্লা তিতাসের বলরামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সম্ভাব্যপ্রার্থী লিটন শিকদারকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে

জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননা, কর্মকর্তাগণ উদাসীন

মাহমুদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননা, কর্মকর্তাগণ উদাসীন

মাহমুদ আল-হাছান, বিশেষ প্রতিনিধি
১৯ নভেম্বর, বুধবার

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননার এক মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক ঘটনা চোখে পড়ে। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক জাতীয় পতাকা যেখানে সর্বোচ্চ সম্মান ও যথাযথ নিয়মে উত্তোলন করার কথা—সেখানে ওই অফিসের ২য় তলার পিলারের উন্মুক্ত রডে যেনতেনভাবে পতাকা বেঁধে রাখা হয়। আজ বিকাল ৩টার দিকে অফিস প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, জাতীয় পতাকাটি ঠিকমতো খোলা অবস্থায় নেই; বরং ভাঁজ হয়ে, পিলারের রডে জড়ো অবস্থায় উপরে ঝুলছে।

এ দৃশ্য দেখার পর অফিসের এক কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়িত্বহীন ভঙ্গিতে বলেন, “আমরা তো এভাবেই পতাকা বাঁধি, এতে কোনো সমস্যা নাই।” তার এই মন্তব্য শুধু দায়িত্বশৈথিল্য নয়, বরং জাতীয় পতাকার মর্যাদাকে অবজ্ঞা করারই স্পষ্ট প্রমাণ।

এ বিষয়ে ডিজিএম মেহেদী মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, তিনি অফিসের বাইরে আছেন। তিনি এ বিষয়ে এজিএম তাপস চন্দ্র পালের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু এজিএম সাহেবকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। জাতীয় প্রতীক অবমাননার মতো গুরুতর বিষয়ে অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

অফিসে সেবা নিতে আসা যোগেশ চন্দ্র রায় বলেন, “আমি যখনই এখানে এসেছি, তখনই দেখেছি জাতীয় পতাকা এভাবেই পিলারে বেঁধে রাখা থাকে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জার।” তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এমন অবহেলা বছরের পর বছর চলছে।

আরেক গ্রাহক আব্দুল মাজেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জাতীয় পতাকা একটি আইন দ্বারা সুরক্ষিত প্রতীক। এটিকে পিলারের রডে জড়ো করে বেঁধে রাখা স্পষ্টতই বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়—এটি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস, ত্যাগের স্মৃতি ও জাতির সম্মানের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ সংগ্রাম, লাখো শহীদের রক্ত এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতার গৌরব এ পতাকায় সমুজ্জ্বল। তাই এই পতাকার মর্যাদা রক্ষায় অবহেলা বা উদাসীনতার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।

জলঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জাতীয় পতাকা অবমাননার এই ঘটনা শুধু একটি অফিসের অবহেলা নয়—এটি দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও আইন অমান্যের এক স্পষ্ট নিদর্শন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ধরনের অবমাননা অব্যাহত থাকবে এবং জনমনে রাষ্ট্রীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান তৈরি হবে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102