সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
জগতপুর ইউনিয়নসহ সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানালেন হাজী মকবুল হোসেন সংহতির নিদর্শন হিসেবে কুয়েতকে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যসামগ্রীর শুভেচ্ছা চালান হস্তান্তর করল বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের প্রতি তথ্যমন্ত্রীর সংহতি প্রকাশ টেকনাফে জাল টাকার নোট প্রস্তুতকারী চক্রের গোপন আস্তানায় বিজিবি’র হানা এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর এশিয়া পোস্টের সম্পাদককে হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আইনি নোটিশ মাসুদ সাঈদীর প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন ডিএনসিসির প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ এডিবির দ্রুত এবং সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সাড়া ও অর্থায়ন দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ——- অর্থ মন্ত্রী দেশের সম্পদ মাটির নীচে রেখে আমদানি ভিত্তিক জ্বালানি নির্ভরতা বাড়িয়ে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রী

অমানতের খেয়ানত: নৈতিক পতনের মুখে সভ্যতার সতর্ক ঘণ্টা

ফারজানা ফারাবী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১০ বার পড়া হয়েছে

ফারজানা ফারাবী, ধর্মীয় ডেক্সঃ মানবসভ্যতার ইতিহাসে আস্থা— সে এক অমূল্য সম্পদ। এই আস্থার ওপর ভর করেই গড়ে ওঠে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার কাঠামো। কিন্তু যখন সততার শিকড় কেঁপে ওঠে, তখনই শুরু হয় নৈতিক ভূমিকম্প, যার অভিঘাত কখনোই ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না— তা বিস্তৃত হয় গোটা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

ইসলাম এ কারণেই আমানতদারিকে ঈমানের অন্তঃস্থলে স্থান দিয়েছে। আর এর বিপরীতে খেয়ানতকে ঘোষণা করেছে মানবতার গুরুতর ব্যাধি হিসেবে। আজ যখন সমাজের প্রতিটি প্রান্তে আস্থাহীনতার ছায়া পড়ছে, তখন এ শিক্ষাগুলো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

সততা— যা হারালে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গভীরতর বাণী—
“যখন মানুষের মধ্যে আমানত নষ্ট হয়, তখন তারা পরস্পরের সঙ্গে খেয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতা করতে থাকে।”
(সহিহ বুখারি)

এই একটি বাক্যই যেন আমাদের সময়ের প্রতিচ্ছবি।

রাজনীতি থেকে বাজার, সংসার থেকে প্রতিষ্ঠানে— সততা যেন আজ বিলাসবস্তু। অথচ হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে—
“মানুষের চারিত্রিক গুণাবলির মধ্যে সবচেয়ে আগে বিলুপ্ত হবে সততা।”
(সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ সততা হারালে মানুষের চরিত্রের ভিত্তি ভেঙে পড়ে, আর সেই ভেঙে পড়া চরিত্রই সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

খেয়ানত: চোখের আড়াল হলেও, বিচারের আঙিনায় লুকানো যায় না

মানুষ অন্যের চোখ ফাঁকি দিতে পারে, কিন্তু সময় ও সত্যকে নয়।

হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন— কেয়ামতের দিন খেয়ানতকারীর কপালে থাকবে বিশেষ চিহ্ন; সে অন্যায় থেকে বাঁচার কোনো পথ খুঁজে পাবে না।

আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী—
“যে ব্যক্তি অন্যের আমানত নিয়ে খেয়ানত করে, তার জন্য পরকালে কঠোর শাস্তি রয়েছে।”

এই বিধান মানবচরিত্রকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আমানত ভঙ্গ কেবল ক্ষুদ্র অপরাধ নয়— এটি ঈমানের ওপর আঘাত।

কোরআনের ঘোষণা: খেয়ানত নিজের অস্তিত্বের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ

আল্লাহ তায়ালা বলেন—
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে করা আমানতের প্রতি খেয়ানত করো না— নিজেদের ওপর বিপদ ডেকে আনো না।”
(সূরা আনফাল: ২৭)

এ আয়াত একটি আধ্যাত্মিক সত্যের পাশাপাশি কঠোর বাস্তবতারও ব্যাখ্যা—
খেয়ানত শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করে খেয়ানতকারীকেই।
কারণ যে সমাজে আস্থা ভেঙে যায়, সেখানে মানুষ একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে; সেখানে শান্তি ও ন্যায় টিকে থাকে না।

মুনাফিকির চিহ্ন: চরিত্রের গহ্বরে পতনের ঘোষণা

রাসুল (সা.)-এর প্রখ্যাত হাদিস—
“মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ আছে— কথা বললে মিথ্যা বলে; প্রতিশ্রুতি দিলে ভঙ্গ করে; আর তাকে আমানত দিলে খেয়ানত করে।”
(বুখারি ও মুসলিম)

এই হাদিস শুধু ধর্মীয় সতর্কতা নয়— এটি মানবচরিত্রের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
যে ব্যক্তির ভিতরে সততার আগুন নিভে যায়, মুনাফিকির অন্ধকার সে-ই আলোকিত হয়ে ওঠে।

সমাজে খেয়ানতের ঢেউ: ব্যক্তির অপরাধ, জাতির পতন

খেয়ানত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক ব্যক্তি দায়িত্বে অবহেলা করলে তার প্রতিক্রিয়া পৌঁছে যায় বহু মানুষের জীবনে।
এটি এমন একটি শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া— যা ধীরে ধীরে আস্থার ভিত্তিপাথর ক্ষয়ে দেয়।

হজরত ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সতর্কতা—
খেয়ানত বাড়লে বিচার দিবসের কঠিনতা বাড়ে; একইভাবে দুনিয়ার সমাজও তখন ভেঙে পড়ে।

আজকের প্রতিচ্ছবি— আমরা কোন পথে হাঁটছি?

আমাদের চারপাশে কি দেখা যায় না—

দায়িত্বহীনতা, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ, আর্থিক অনিয়ম, পেশাগত খেয়ানত, সামাজিক সম্পর্কের অবক্ষয়?

প্রতিটি ঘটনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে খেয়ানতের রূপ।

রাসুল (সা.) তাই ঘোষণা দিয়েছেন—
“আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি আমানতের দায়িত্ব না রক্ষা করা মানবতার ব্যর্থতা।”

এই ব্যর্থতার পথ থেকে ফিরে আসতে হলে আমাদের প্রথম কাজ—
সততাকে আবার সমাজের মূলধারা হিসেবে ফিরিয়ে আনা।

শেষকথা

অমানত রক্ষা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি আত্মমর্যাদার পরিচয়।
খেয়ানত শুধু সম্পর্ক ভাঙে না— ভেঙে দেয় সভ্যতার ভিত্তি।
যেখানে আমানতদারির চর্চা নেই, সেখানে ন্যায় টিকে থাকে না;
শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না;
সমাজ থাকে না সুস্থ, না নিরাপদ।

তাই আমাদের প্রশ্ন একটাই—
আমরা কি এমন ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে আস্থার আলো নিভে যাবে?
যদি না চাই— তবে আজই আমাদের ফিরে যেতে হবে সততা ও আমানতের পথে।
সেই পথই সমাজকে রক্ষা করবে, আর মানুষকে ফিরিয়ে দেবে তার প্রকৃত মানবিক মর্যাদায়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102