কুমিল্লা তিতাসঃ মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই যোগদান করেন সুমাইয়া মমিন। তার এই দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে তিতাস উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল ও জনমুখী করতে দক্ষতা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে তিতাসবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ৩৫তম ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনও সুমাইয়া মমিন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে তিতাসে জলাবদ্ধতা নিরসন, বাজার ব্যবস্থাপনা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার কার্যকর পদক্ষেপ ছিল চোখে পড়ার মতো। শিক্ষা খাতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম মনিটরিং, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।
এছাড়াও প্রতিনিয়ত উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজের ফাঁকে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলের রীতিমতো খোঁজখবর নিচ্ছেন তিনি। কোথাও কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে ছুটে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে। সরকারি খাসজমি উদ্ধার ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণে পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সবার নজর কেড়েছে। পরীক্ষার হলে ফিরেছে সুন্দর পরিবেশ। যা এর আগে এমন পরিবেশ কেউ দেখেনি। তিনি বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে স্বচ্ছতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে নজির সৃষ্টি করেছেন ইউএনও সুমাইয়া মমিন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল জানান, “ইউএনও সুমাইয়া মমিন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিতাসবাসী প্রকৃত অর্থে প্রশাসনিক সেবা পাচ্ছে। তার সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার কারণে উপজেলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।”
তিতাসবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও ইউএনও সুমাইয়া মমিন একইভাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন এবং তিতাসকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। ইউএনও সুমাইয়া মমিন বলেন,“আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করছি।
৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলা চেয়ারম্যান ও কিছু ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অপসরণ করা হলে নিয়মাতান্ত্রিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তর গুলোর দায়িত্ব পড়েছিলো আমার ওপর। প্রতিটি দপ্তরের দায়িত্বই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেষ্টা করেছি। দায়িত্বের পরিধি বড় বা ছোট নয়, বরং কাজটাকে আন্তরিকভাবে করা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন এখানে আছি, ততদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করব। জনস্বার্থ নিশ্চিত করতে তিনি তিতাসের স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুধীজন, সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন।”