কুমিল্লা প্রতিনিধি, মোঃ রমিজ উদ্দিন :
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দড়িগাঁও পূর্বপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের এক চরম জনদুর্ভোগের অবসান ঘটেছে। এলাকার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার মধ্যবর্তী অংশ সংস্কারের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কষ্ট লাঘব করা হয়েছে।
দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দু: ওজু ও গোসলের চরম সংকট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দড়িগাঁও পূর্বপাড়া মুর্শিদ বেপারীর বাড়ি হতে নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তাটি মাঝখান দিয়ে নিচু বা ম্যাচ হয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে নোংরা পানি ও কাদা জমে থাকত। এই রাস্তাটি এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এলাকার মা-বোনেরা সবাই এই নদীতেই গোসল করতে যান। কিন্তু গোসল শেষে ফেরার পথে রাস্তার এই নোংরা পানি মাড়িয়েই তাদের বাড়ি ফিরতে হতো।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তেন এলাকার মুসল্লিরা। মুরুব্বিরা নদী (গাংপাড়) থেকে পবিত্র হয়ে ওজু করে আসলেও, রাস্তার মাঝখানের এই জমে থাকা ময়লা পানি ও কাদার ওপর দিয়ে আসার কারণে প্রায়শই তাদের ওজু ভেঙে যেত। জুতা পায়ে দিয়েও পবিত্রতা রক্ষা করে বাড়ি ফেরা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এছাড়া এই রাস্তাটি ব্যবহার করে মানুষ মেঘনা নদী পার হয়ে পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার যাতায়াত করেন। ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষকে এই ভোগান্তি পোহাতে হতো। দীর্ঘদিন ধরে এই চরম সংকট চললেও তা নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রবাসীর মানবিকতা ও যুবকদের শ্রম
সম্প্রতি এই দুর্ভোগের চিত্র চিরতরে বদলে দিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জনাব মোঃ হান্নান (এলাকার সবার প্রিয় হান্নান কাকা)। প্রবাস থেকে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে তিনি এলাকার মানুষের এই চরম কষ্ট নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেন। দেশের মা ও মাটির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার একঝাঁক উদ্যমী ও সমাজসচেতন যুবককে সঙ্গে নিয়ে রাস্তাটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। যুবকদের অক্লান্ত স্বেচ্ছাশ্রম এবং প্রবাসী হান্নান কাকার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ে রাস্তাটির মধ্যভাগের নিচু অংশ সংস্কার করা হয়। এর ফলে অবসান ঘটে মা-বোন ও মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির।
স্মৃতির পাতায় হান্নান কাকার অতীত কীর্তি
এলাকার মানুষের কাছে হান্নান কাকার এই জনকল্যাণমুখী রূপ কিন্তু নতুন কিছু নয়। আজ রাস্তা মেরামতের এই মহৎ কাজটি দেখে এলাকার মানুষের মনে পড়ে গেছে উনার অতীতের কিছু সোনালী স্মৃতির কথা।
আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে, হান্নান কাকা এলাকার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে একটি বিশাল শিক্ষামূলক ও অনুপ্রেরণাদায়ক প্রোগ্রামের আয়োজন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ক্রীড়াঙ্গনেও উনার অবদান ছিল অনন্য। পার্শ্ববর্তী সাতানী ইউনিয়নের কালাইকান্দি গ্রামে আমাদের গ্রামের পক্ষ থেকে একটি বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে দড়িগাঁও টিমকে মাঠে নামানো এবং তাদের চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে মূল কারিগর ও সার্বিক সহযোগিতাকারী ছিলেন এই হান্নান কাকা। উনারই পৃষ্ঠপোষকতায় সেই টুর্নামেন্টে দড়িগাঁও টিম গৌরবময় বিজয় লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
”আজ যখন উনি প্রবাস থেকে এসে আবারও যুবকদের নিয়ে রাস্তা সংস্কার করলেন, তখন ছোটবেলার সেই বিজয়ের স্মৃতিগুলো মনের কোণে ভিড় করে এলো। হান্নান কাকা তখনো যেমন আমাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, আজও ঠিক তেমনি আছেন।”
প্রবাসে কাটুক নিরাপদ ও সুখের জীবন: জনতা টিভির পক্ষ থেকে সাধুবাদ
বর্তমানে কর্মসূত্রে মোঃ হান্নান কাকা সুদূর মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
শুধু তিনি একাই নন, উনার দুই ছেলেও উনার সাথে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন।
একটি সামাজিক দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যম হিসেবে এই মহতী কাজটিকে সাধুবাদ জানায় ‘জনতা টিভি’ পরিবার। জনতা টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা পরম করুণাময়ের দরবারে প্রার্থনা করি প্রবাসের মাটিতে আমাদের প্রিয় হান্নান কাকা এবং উনার সন্তানেরা যেন সবসময় সুস্থ, নিরাপদ ও ভালো থাকেন। উনার মতো মানবিক মানুষের হাত ধরে আমাদের সমাজ আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠুক।