আলী আহসান রবি :
২৫ মে ২০২৬
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছে। পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, শপিংমল, ব্যাংক, ঈদ জামাত এবং ঈদের ছুটিকালীন ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ও গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিটি পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি গরুর হাটে দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতিসহ একটি করে সাব-কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ছিনতাই, জাল নোট, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে ডিবিসহ সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন আছে। অধিক পরিমাণ নগদ অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে মানি এস্কর্ট সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত মোবাইল টিম, ফুট পেট্রোল ও চেকপোস্ট ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
কমিশনার বলেন, পশুর হাট কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং-এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে (যেমন : গাবতলী, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী) চেকপোস্ট রয়েছে। পশুবাহী গাড়ির চলাচলের পথে নজরদারি থাকবে। যাতে কোনো পশুবাহী ট্রাককে নির্দিষ্ট হাট ছাড়া অন্য কোথাও জোরপূর্বক নামাতে না পারে। গরুর হাটের হাসিল কাউন্টারগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে হাটে বুথ বা মোবাইল ব্যাংকিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদের আগের দিনগুলোতে ঢাকা ছাড়বেন লাখ লাখ মানুষ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাস, লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ কন্ট্রোলরুম ও ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী এবং গাবতলী বাস টার্মিনালসহ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রী হয়রানী, অতিরিক্ত ভাড়াআদায় এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে ডিএমপির বিজ্ঞ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। হাইওয়ে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ঢাকার এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্টগুলো যানজটমুক্ত রাখা হচ্ছে। মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন এবং যত্রতত্র পার্কিং করা গাড়ির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পশুর হাটের কারণে প্রধান সড়কে যেন যানজট না হয়, সেজন্য হাটের সীমানার বাইরে রাস্তা বা ফুটপাতে কোনো পশু রাখতে দেওয়া হবে না। যাতে যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।
ছিনতাই, জালনোট, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টি প্রতিরোধে ডিবিসহ সাদা পোশাকে পুলিশ টার্মিনালসমূহে নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি টার্মিনালে পুলিশি টহল ও ফুট পেট্রোল কার্যকর থাকবে। যাত্রী হয়রানি, টিকেট কালোবাজারী, ছিনতাই ও চাঁদাবাজ প্রতিরোধে নজরদারি অব্যাহত আছে। পশুবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ডিএমপির সীমান্তবর্তী এলাকায় ১১ টিসহ শহরজুড়ে ৬০ টির অধিক চেকপোস্ট কার্যকর থাকবে এবং অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার ।
এসময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন