রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
সরকার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদেরকে সাথে নিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী কুমিল্লা তিতাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত শফিকুল আর নেই, বিকেলে জানাজা পুলিশ ফুটবল গ্রাউন্ড উদ্বোধন করলেন আইজিপি কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়িপেটাঃ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নিন্দা বেঙ্গল ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড কর্তৃক অর্ধবার্ষিক ব্যবসা পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহীতে ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আধুনিক ও সমৃদ্ধ মহানগরী গড়ার প্রত্যয় ভূমিমন্ত্রীর শাহজাদপুরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জের জামিরতায় প্রযুক্তিনির্ভর ‘ভিশন সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে সাংবাদিকদের তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী টেকনাফের মাদক কারবারি জামালের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী মিললেই ‘ধ্বংস’ যুক্তরাষ্ট্র!”

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬৪ বার পড়া হয়েছে

আলী কদর পলাশ

তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী মিললেই ‘ধ্বংস’ যুক্তরাষ্ট্র! আজ ৯ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকের এই শিরোনামে নিশ্চয়ই পাঠকের কৌতূহল জাগে। মনে প্রশ্ন ওঠে, সত্যিই কি এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে?

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বলছে, সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। তেলের বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। ফলে উদ্বেগ বাস্তব।

কিন্তু এই বাস্তবতার মধ্যেই একটি প্রশ্ন জরুরি। দুটি ঘটনার সঙ্গে কোনো পুরনো বক্তব্য মিলে গেলেই কি তৃতীয় ঘটনাও নিশ্চিত হয়ে যায়?

ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চীনের এক অধ্যাপক আগে তিনটি পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফিরবেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়বে। আর শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হবে। প্রথম দুটি বিষয়কে এখন অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

কিন্তু এখানেই সমস্যা। সম্ভাবনা আর ভবিষ্যদ্বাণী এক জিনিস নয়।

ইতিহাসভিত্তিক বিশ্লেষণ অনেকেই করেন। বিভিন্ন গবেষক ভবিষ্যতের প্রবণতা নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু সেটি নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়। বরং একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা মাত্র।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি কখনো সরল পথে চলে না। এখানে বহু শক্তির হিসাব কাজ করে। সামরিক ক্ষমতা আছে। অর্থনীতি আছে। কূটনীতি আছে। আঞ্চলিক জোট আছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও আছে। সব মিলেই ফল নির্ধারিত হয়।

তাই একটি বক্তৃতা দিয়ে কোনো রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

এই জায়গায় গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিরোনাম থেকেই পাঠকের ধারণা তৈরি হয়। শিরোনাম যদি খুব চূড়ান্ত হয়, পাঠকও সেটিকেই সত্য ধরে নেন।

আন্তর্জাতিক বড় সংবাদমাধ্যমগুলো সাধারণত আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করে। তারা বলে উত্তেজনা বাড়ছে। সংঘাত বিস্তারের ঝুঁকি আছে। জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। তারা “ধ্বংস” বা “শেষ” ধরনের শব্দ খুব কমই ব্যবহার করে।

কারণ সাংবাদিকতার কাজ ভবিষ্যৎ ঘোষণা করা নয়। কাজ হলো বাস্তবতা ব্যাখ্যা করা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই গুরুতর। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সেই বাস্তব সংকটকে যদি রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণীর গল্পে রূপ দেওয়া হয়, তাহলে পাঠক তথ্যের বদলে আতঙ্ক পান।

ইতিহাস শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে লেখা হয় না। ইতিহাস লেখা হয় বাস্তব ঘটনার ধারায়। আর সেই ইতিহাসের প্রথম খসড়া লিখে সংবাদমাধ্যমই।

তাই শিরোনামের নাটক নয়, দরকার ঠান্ডা মাথার বিশ্লেষণ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102