রাশেদুজ্জামান সুমন, জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটের লড়াই ততটাই বাড়ছে। চায়ের দোকান, হাট বাজার, স্কুল কলেজে শুধু ভোটের আমেজ। বড় বড় ব্যানার, মাইকে ও নাচ গানে চলছে প্রচার, প্রচারণা। ভোটারদের সামনে নিজের পক্ষে ভোট নিতে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফোটাচ্ছে। চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার প্রতিটি পাড়া মহল্লার দ্বারে, দ্বারে। নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে দুই লক্ষ ৯৪ হাজার ৪ শত ৪৬ জন। এর পুরুষ ভোটার সংখ্যা এক লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৭৮ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা এক লক্ষ ৪৪ হাজার ৫৬৭ এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে।
নীলফামারী ৩ আসনে নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মুলত লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার মধ্যে। এই দুই দলীয় প্রার্থী মাঠ চষিয়ে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে জাপা ও হাত পাখার প্রার্থীকে মাঠে সেভাবে লক্ষ্য যাচ্ছে না। তারা যেন ঝিমিয়ে পড়েছেন। নেই গণসংযোগ, সেরকম ভাবে নেই ব্যানার, ফেষ্টুন। বাংলাদেশ তৈরী হওয়ার পর থেকে ১২ বার সংসদ নির্বাচন হয়েছে এর মধ্যে আওয়ামীলীগ ৩ বার জাতীয় পার্টি ৪ বার জামায়াত ৩ বার, বিএনপি একবার, সতন্ত্র প্রার্থী একবার নির্বাচিত হয়েছে। এ আসনটি মুলত জামায়াতের ঘাটি হিসাবে পরিচিত। বিএনপির সেরকম ভোট নেই।কিন্তু এবার দুই বারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী প্রার্থী হওয়ার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। তার এই উপজেলায় অনেক অবদান রয়েছে। তিনি প্রায় সবাইকে আর্থিক ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। তাছাড়াও দ্বীখন্ডিত বিএনপি এক করেছেন তিনি। এজন্যই ধানের শীষ এগিয়ে আছে। অপর দিকে জামায়াতের ঘাটিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন তাদের মনোনীত প্রার্থী ওবায়দুল্লা সালাফী। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সারাদেশে তিনজন সংসদ সদস্যের মধ্যে এই নীলফামারী ৩ থেকে একজন এমপি বিজয়ী হয়েছিল।
এজন্য তাদের আলাদা ভোট ব্যাংক রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রোহান চৌধুরীকে ভোটের মাঠে সেভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। প্রচার প্রচারণায় অনেকটা পিছিয়ে আছে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে বিভক্তি। এজন্য জাতীয় পার্টির ইতিহাসের সবচেয়ে কম ভোট পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। হাতপাখার আমজাদ হোসেন সরকারও প্রচার প্রচারণা খুব অল্প পরিসরে আর গনসংযোগ ও সভা সমাবেশ দায়সারা। উপজেলা জাজাসের আহবায়ক সুলতান মাহমুদ বলেন ” গন মানুষের দল বিএনপি। বর্তমানে এ আসনে সৈয়দ আলী প্রার্থী হওয়ার কারণে দল মত নির্বিশেষে ওনাকে মানুষ ভোট দিবে। আমাদের দাবী ভোট যেন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হয়। তাহলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত “। শিবিরের সাবেক নেতা রমজান আলী জানান ” জলঢাকা জামায়াতের ঘাটি এখানকার মানুষ দাড়ি পাল্লায় বরাবরই ভোট দিয়ে আসে। আর মাওলানা ওবায়দুল্লা সালাফী একজন সৎ মানুষ। তাই ওনি এবার এমপি নির্বাচিত হবে। জলঢাকার মানুষ চাঁদাবাজি পছন্দ করে না। তাই ইনছাফ ও ন্যায়ের পক্ষেই রায় দিবে “।
উল্লেখ্য আগামী বৃস্হপতিবার একশত পাঁচটি ভোট কেন্দ্রে, ৫৪০টি গোপন বুথে সিল মেরে নীলফামারী ৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবে ভোটাররা। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন ” নির্বাচনে কোনো প্রকার অপৃতিকর ঘটনা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর রয়েছে । এবং প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের গায়ে থাকবে বডিঅন ক্যামেরা। অনলাইনের মাধ্যমে আমরা মনিটরিং করতে পারব। এছাড়াও মাঠে থাকবে মোবাইল কোর্ট”।