বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি’র সাথে কানাডিয়ান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কো প্রতিনিধির সৌজন্য সাক্ষাৎ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুকরণে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত ESCAP এর ৮২তম অধিবেশনে টেকসই ভবিষ্যতের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানালেন ফকির মাহবুব আনাম হজক্যাম্পে চালু হয়েছে লাগেজ র্যাপিং সেবা বন্ধ পাটকল চালু করলে অর্থনীতিতে গতি আসবে- বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সরকার কৃত্রিম সংকট বা কারসাজি বরদাশত করবে না : বাণিজ্যমন্ত্রী স্কুলে সংস্কৃতিচর্চা নিশ্চিত হলে দেশে উগ্রবাদের স্থান হবে না: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানায় গাজা সহ দুই মাদক কারবারি আটক

শিক্ষা খাতে সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মূল্য স্বীকার জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি :

ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬:

শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, পরিবর্তনের নামে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে রূপান্তর ঘটছে, তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিজস্ব পরিচয় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতি ও অসংগতি পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক রফিকুল আবরার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন খাতে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অবদান রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্তর্দৃষ্টি নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এই খাতে সক্রিয় ব্যক্তিদের শ্রম ও অবদান আমরা গভীরভাবে স্বীকার করি এবং সম্মান জানাই।

তিনি বলেন, এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে একটি ভিশন ডকুমেন্ট ও পরামর্শভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা ভবিষ্যতে সামাজিক শক্তি হিসেবে আমাদের ভূমিকা আরও সুসংহত করতে সহায়ক হবে। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়নি। আলোচনায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনগুলো কোনো নির্দিষ্ট সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। এগুলো একটি সমন্বিত আলোচনার ফল।

তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব শেষ হলে আমি আবারও নাগরিক সমাজভিত্তিক কার্যক্রমে ফিরে যাবো। এই দায়িত্ব আমাকে নতুন কিছু ইস্যু ও প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সহকর্মীদের উত্থাপিত নানা বিষয় ভবিষ্যৎ অ্যাডভোকেসি ও নীতিগত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই আলোচনা কোনো সমাপ্তি নয় বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। সম্মিলিত প্রতিফলন ও অংশগ্রহণই এই উদ্যোগের বড় সাফল্য

অনুষ্ঠানে ক্যাম্পের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা খাতে যেসব গবেষণা, চিন্তা ও দাবি উঠে এসেছে, সেগুলোর অনেকটাই এই প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এতদিন কেন শিশুরা শিখছে না, কেন শিক্ষকরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না এবং কেন পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না—সে প্রশ্নগুলোর অনেক উত্তর এই আলোচনায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

 

 

 

তিনি বলেন, বিশেষ করে মূল্যায়নব্যবস্থা (অ্যাসেসমেন্ট) যে দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা, তা গবেষণার মাধ্যমে আগেও চিহ্নিত হয়েছে। তবে এবার সমস্যার পাশাপাশি সামনে এগোনোর দিকনির্দেশনাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ইতিবাচক।

এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা কোথা থেকে এবং কীভাবে আসবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই সংস্কার বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।

এসময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষা নিয়ে এসব কথা নতুন নয়, তবে এবার বিষয়গুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, সামগ্রিক ও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতদিন শিক্ষা নিয়ে আলোচনা ছিল খণ্ডিত ও আংশিক। একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির অভাব ছিল। এই প্রতিবেদনে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনো শিক্ষা সংস্কারবান্ধব নয়। গত ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতায় সেটাই দেখা গেছে। শিক্ষা সংস্কারের জন্য একটি অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে তৈরি হবে বলেও প্রত্যাশা জানান তিনি।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার অনন্ত নীলিম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনরা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102