নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে হাতপাখা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে কুতুবপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। দীর্ঘদিন ধরে কুতুবপুরবাসীর যে দাবি, সেটিকে বাস্তব রূপ দিতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সময় কুতুবপুরের দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন পরিস্থিতি তুলে ধরে মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, “কুতুবপুর ইউনিয়নে একজন চেয়ারম্যান প্রায় ২০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এত দীর্ঘ সময়ে কুতুবপুরের মৌলিক অবকাঠামো, নাগরিক সুবিধা ও সার্বিক উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “চেয়ারম্যান অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কিন্তু দল বদলালেও কুতুবপুরের ভাগ্য বদলায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কুতুবপুরের উন্নতির বদলে অবনতি হয়েছে। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, পানি-বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কুতুবপুর আজও পিছিয়ে।”
গণসংযোগে তিনি কুতুবপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা অবগত আছি আপনারা অনেকদিন ধরেই কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। আমি আপনাদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।”
মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, কুতুবপুর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলে এখানকার নাগরিকরা উন্নত নগরসেবা, পরিকল্পিত অবকাঠামো, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ পাবে। এতে কুতুবপুরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন দ্রুততর হবে।
তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমি আপনাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আপনারা যদি আমাকে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদে পাঠান, তাহলে কুতুবপুরকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আমি জোরালো ভূমিকা রাখবো। এই কাজ একদিনে হবে না, কিন্তু আপনাদের পাশে থেকে ধাপে ধাপে আমি কাজ করে যাবো।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনাদের সমর্থন, দোয়া ও ভালোবাসা প্রয়োজন। আপনাদের ভোট ও সমর্থন পেলে আমি কুতুবপুরের উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো আপস করবো না ইনশাআল্লাহ।”
গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা কুতুবপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যা তুলে ধরে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনে পরিবর্তন এলে কুতুবপুরের উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।