রাশেদুজ্জামান সুমন :
জলঢাকা, নীলফামারী প্রতিনিধি-
ইচ্ছে শক্তি আর দৃঢ় মনোবল থাকলে শুধু নিজের জগৎটাই নয়, বাইরে থাকা পৃথিবীটাকে সুন্দর করে সাজানো যায়। সৎ মনোভাব থাকলে লোভ লালসাকে পরিত্যাগ করে উন্নয়নের জোয়ার তৈরী করা সম্ভব। ঠিক এরকমই দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন জলঢাকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের মধ্যেই এই জলঢাকাকে আদর্শ উপজেলা হিসাবে, আধুনিক মানসম্মত নগরী তৈরী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। যা এই এলাকার মানুষের স্বপ্ন ছিল। বিগত সময়ে যা সম্ভব হয়নি তাই তিনি করে দেখিয়েছেন। অনবরত জলঢাকা পৌর শহরকে উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবিত করে চলেছেন। দমাতে পারেনি কারো সমালোচনা। এজন্যই সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর।
সরকারি দপ্তরগুলো অনেকটাই দুর্নীতিমুক্ত করে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন জনবান্ধব, সেবামুখী দপ্তর হিসেবে গড়ে তুলতে। এ কারণেই নিরাপদে রয়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই উপজেলার দায়িত্ব নেয়ার পরে তাঁর মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে তৈরী করেন উন্নয়নের রূপরেখা। এখন সেই বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যেই তৈরী করেছেন জলঢাকা মিনি পৌর পার্ক, ফুটপাতকে দখলমুক্ত করে যানজট নিরসন করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে গোটা শহরকে সিসি টিভির আওতায় এনেছেন। উপজেলা চত্ত্বরকে বানিয়েছেন আধুনিক ও নজরকাড়া। ফুলের সৌরভে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। করেছেন গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য গ্যারেজ। শহরের পানি নিষ্কাসনে ড্রেনেজ ব্যাবস্থা, রাতের আধারের জন্য সুসজ্জিত লাইটিং ও পৌর এলাকার কাচা সড়ক গুলোকে পাকা করণের কাজ চলমান। সামনে পরিকল্পনায় আছে পৌর নিজস্ব ভবন, ট্রাফিক চত্তরে রাস্তা প্রসস্তকরণ ও ট্রাফিক বুথ স্থাপন সবই সামনে দৃশ্যমান হবে সবার, শিশু পার্ক নির্মাণ, বাস টার্মিনালের উন্নয়ন, কৈমারী রোডের পাশে ময়লার স্তুপ পরিস্কার করে সেখানে ভাসমান ব্যবসায়ীদের হাটের দিনে বসার ব্যবস্থাকরণ। এছড়াও পরিকল্পনা রয়েছে মিনি স্টেডিয়ামে হাটার জন্য দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে ও উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার নির্মাণ যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে দৃশ্যমান হবে। উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে কাচা রাস্তাগুলোকে সিসি, এইচ বি বি ও সলিং করণের মাধ্যমে গ্রামের চিত্র অনেকটাই পাল্টে যাচ্ছে প্রশাসনের উদ্যোগে। জলঢাকা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জনাব মমিনুর রহমান বলেন- “জলঢাকা শহরের যানজট দীর্ঘদিনের, কেউ সেটা দূর করতে পারেনি এই ইউএনও স্যার তা করে দেখিয়েছেন। উনার কথাবার্তাও মানুষকে মুগ্ধ করে”।
মীরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মানিক জানান, “বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার খুব সৎ মানুষ ও উন্নয়ন বান্ধব। তিনি কাজ বুঝে নেয়ার সময় বিন্দুমাত্র ছাড় দেননা। উনার কারণে আমার ইউনিয়নের অনেক রাস্তা পাকা করতে পেরেছি”। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জায়িদ ইমরুল মোজক্কিন জানান, “সরকার আমাকে এই জলঢাকা উপজেলার দায়িত্ব দিয়েছে কাজ করার জন্য আমি সেটাই করার চেষ্টা করছি মাত্র। এ উপজেলার সাধারণ মানুষ অনেক ভালো ও জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ খুবই আন্তরিক ও সহযোগিতা প্রেবণ তাই দ্রুত জগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। আগামীতে সকলের সহযোগিতায় আরও অনেক ভালো কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে”।
রাশেদুজ্জামান সুমন,
জলঢাকা, নীলফামারী প্রতিনিধি-
তারিখঃ ৩১/০১/২০২৬ইং।