বিশেষ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেছেন, “মানুষ উন্নয়ন চায়, পরিবর্তন চায়। নারায়ণগঞ্জে ভালো কিছু হোক—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। আমরা সেই ভালো কিছুই করতে চাই। আর তা বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে মাঠে নেমে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কাউকে প্রতিপক্ষ মনে না করে সকল জনগণের কাছে হাতপাখার দাওয়াত নিয়ে যেতে হবে।”
সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৫) রাতে, বাদ এশা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম। সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, “নারায়ণগঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বপ্ন দেখছে, তা পূরণ করতে হলে রাজনীতিতে নৈতিকতা ও জনসেবার মনোভাব ফিরিয়ে আনতে হবে। আমাদের রাজনীতি হবে মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝার রাজনীতি। এলাকার প্রতিটি ঘরে আমরা উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু শত্রুতা নয়। বিভেদ নয়, ঐক্য—এই নীতিতে এগোতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কেবল ভোটের লড়াই নয়, এটি মানুষের আস্থা অর্জনের লড়াই। মানুষের বিশ্বাস পেতে হলে আগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। যুবসমাজ, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, নারী-শিক্ষার্থী—সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন পরিকল্পনা আমাদের কাছে কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”
সভায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই আসনে সংগঠনের শক্তি ও জনসমর্থন বাড়াতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক ইউনিটকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কর্মীদের শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও নৈতিক আচরণই হবে আমাদের শক্তি।”
বৈঠকে উপস্থিত নেতারা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার, ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, দাওয়াতি কর্মসূচি ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ, এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা তুলে ধরা হয়।
মুফতি ইসমাঈল সিরাজী বলেন, “নারায়ণগঞ্জকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এখানে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থাকবে, আর সেবামূলক রাজনীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।” তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রতিটি ওয়ার্ডে ও পাড়ায় পাড়ায় হাতপাখার বার্তা পৌঁছে দিন। মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, তাদের কথা শুনুন, তাদের সমস্যার পাশে দাঁড়ান।”
সভা শেষে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। এতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, প্রচারণা কৌশল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের আস্থা অর্জনে সফল হবে।