আলী আহসান রবি :
ঢাকা, ১০ জানুয়ারী ২০২৬:
আজ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (ডিআইএফএফ) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র উদযাপনের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমের সদস্যরা একত্রিত হন।
উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জাতীয় জাদুঘরের দুটি মিলনায়তনে একযোগে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। চেন জিয়াং পরিচালিত উ জিন ঝি লু (“দ্য জার্নি টু নো এন্ড”) (উদ্বোধনী চলচ্চিত্র) প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রধান মিলনায়তনটি উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান তুলে ধরে জাতীয় জাদুঘরে চীনা সিনেমার জন্য নিবেদিত একটি বিশেষ প্রদর্শনী কর্নারও উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থামিদ আহমেদ শামীম পরিচালিত জোল্টোরংগো থিয়েটার কোম্পানির একটি নাট্য পরিবেশনাও ছিল, যিনি মূল মিলনায়তনে একটি আকর্ষণীয় ঝাঁকের অভিনয় উপস্থাপন করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, উৎসব পরিচালক জনাব আহমেদ মুজতাবা জামাল উৎসবের পথপ্রদর্শক দর্শন ভাগ করে নেন: “ভালো চলচ্চিত্র, ভালো দর্শক, ভালো সমাজ।” বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূত জনাব লি শাওপেং এই অনুষ্ঠানকে চীনা চলচ্চিত্র সপ্তাহ হিসেবে উল্লেখ করে সিনেমার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উপর জোর দেন।
বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের জনাব লি সাংস্কৃতিক পরামর্শদাতাও সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে চলচ্চিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ক্রোয়েশিয়া-যুক্তরাজ্য ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ মন্তব্য করেন যে বাংলাদেশী সিনেমা গল্প বলার একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ধারণ করে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানিসম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে সিনেমার ভূমিকার উপর জোর দেন। তিনি পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল অনুশীলনগুলিকে উৎসাহিত করেন এবং উৎসবে পরিবেশ-ভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বিশ্বব্যাপী সমস্যা সমাধানে সিনেমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যেমন মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং সামাজিক উত্তেজনা, সাংস্কৃতিকভাবে দর্শকদের সম্পৃক্ত করে এবং মূল্যবোধ, জ্ঞান এবং ঐতিহ্য ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে।
বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জনাব জালাল আহমেদ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার দীর্ঘকালীন সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন এবং আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে এই উৎসব তার সাফল্যের উত্তরাধিকার অব্যাহত রাখবে।
এই বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে স্বাধীন, আন্তর্জাতিক এবং সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক চলচ্চিত্র। এই উৎসব চলচ্চিত্র নির্মাতাদের তাদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক আখ্যান, সামাজিক উদ্বেগ এবং আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে চলেছে, একই সাথে দর্শকদের সিনেমার মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য অনুভব করতে সক্ষম করে।
উৎসবটি ঢাকা এবং কক্সবাজারের একাধিক স্থানে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে:
অ্যালায়েন্স ফ্রাঁসেজ ডি ঢাকাল
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
লাবনী সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার
এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সাংস্কৃতিক বিনিময়কে তুলে ধরতে জাতীয় জাদুঘরে চীনা চলচ্চিত্র বিষয়ক একটি বিশেষ প্রদর্শনী কর্নার উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও ছিল জলতরঙ্গ থিয়েটার কোম্পানি-র একটি থিয়েট্রিক্যাল পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল উৎসবের মূল দর্শন তুলে ধরে বলেন-
“Better Films, Better Audience, Better Society.”
বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কালাচার কাউন্সিলরমি. লিই শাওপেং এই আয়োজনকে চীনা চলচ্চিত্র সপ্তাহ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। মি. লিই চলচ্চিত্রকে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করেন।
ক্রোয়েশিয়া – যুক্তরাজ্যভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেকজান্দ্রা মার্কোভিচ বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গল্প বলার একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে চলচ্চিত্রের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি পরিবেশবান্ধব আচরণে সবাইকে উৎসাহিত করেন এবং উৎসবে পরিবেশভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী চাপ, হতাশা ও সামাজিক উত্তেজনার মতো বিষয় মোকাবিলায় সাংস্কৃতিকভাবে মানুষকে যুক্ত করে এবং মূল্যবোধ, জ্ঞান ও সংস্কৃতি ভাগাভাগি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে উৎসবটির সাফল্য নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বের ৯১টি দেশ থেকে আগত মোট ২৪৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। স্বাধীন, আন্তর্জাতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এই উৎসব চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক ভাবনা, সামাজিক সংকট ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দর্শকদের জন্য এটি বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ও জীবনধারা জানার একটি সুযোগ তৈরি করে।
উৎসবটি ঢাকা ও কক্সবাজারের একাধিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে-
আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি
থ্রিডি আর্ট গ্যালারী
ভিনটেজ কনভেনশন হল