খবর বিজ্ঞপ্তিঃ বীমা খাতে যোগ্য লোকের অভাবে অনেক বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। অথচ মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগযোগ্য ব্যক্তিরা অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পাশাপাশি উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন।
মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদটি পূরণের লক্ষ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রবিধানমালা সংশোধন করেছে। সংশোধিত প্রবিধানমালার মাধ্যমে বীমাকারীর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজিকরণ, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশোধনের আওতায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্তাবলী শিথিল করা হয়েছে।
এর ফলে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বীমাকারীর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত বহুজাতিক বীমা কোম্পানিতে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা পদে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও শর্তাবলী শিথিল করা হয়েছে। এতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগে যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তার স্বল্পতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া একচ্যুয়ারি, CPA, CFA, CLU, ICAB, ACCA এবং ICMAB-এর Fellow Associateসহ স্বীকৃত পেশাগত ডিগ্রি বা পদবিধারীদের জন্য মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের শর্তাবলী শিথিল করা হয়েছে।
সংশোধিত প্রবিধানমালায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ বা নবায়নের ক্ষেত্রে আবেদন দাখিল ও কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সিদ্ধান্ত অবহিত করার সময়সীমা পূর্বের ১৫ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতিপরায়ণ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কোনো বীমা কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পদের ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং বা আর্থিক অনিয়মের কারণে অপসারিত হওয়া ব্যক্তি কিংবা যাদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ বা নবায়নের আবেদন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে—তারা অন্য কোনো বীমা কোম্পানিতে নিয়োজিত হতে পারবেন না।
সংশোধিত প্রবিধানমালার মাধ্যমে সম্ভাব্য সিইও পুল সম্প্রসারিত হয়েছে, উচ্চ পেশাগত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সিইও নিয়োগলাভ সহজতর হবে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং বীমা সেক্টরের উপরে জন আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।