চৌহালী প্রতিনিধি, আব্দুল আলীম :
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে ইফতার মাহফিল ও যমুনায় বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহতের ঘটনায় থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির জনি সাইদুল ও বর্তমান থানা বিএনপি’র সদস্য সচিব মনজুর রহমান মঞ্জু শিকদারের প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রোমানা মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু সিদ্ধান্ত নিয়ে এই সংশ্লিষ্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বুুধবার রাতে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জেলা বিএনপি ৩ সদস্যের একটি অধিকরত তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের আগামী দুই দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করার কথাও বলা হয়েছে।
কমিটিতে রয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তালুকদার রানা, যুগ্ম সম্পাদক নুর কায়েম সবুজ।
এদিকে নিজের সদস্য পদ স্থগিতের ঘটনাকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন জাহাঙ্গীর কবির জনি সাইদুল। তিনি জানান, আমি কোনো ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত নই। পরিকল্পিত ভাবে এই এলাকাকে অস্থিতিশীল করছে আমিরুল ইসলাম খান আলিমের নির্দেশে তার অনুসারীরা।
তিনি মূল বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের নানা ভাবে অত্যাচার ও লুটপাট, বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ প্রভাব বিস্তারে জড়িত রয়েছেন সহযোগীদের নিয়ে। সে প্রতিহিংসা করে, সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে না থাকলেও আমার সদস্যপদ স্থগিত করিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে এনায়েতপুর থানার সদিয়া চাঁদপুর চরে বিএনপি’র দুই পক্ষের ইফতার মাহফিল নিয়ে দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে ৮ জন আহতের মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা কবির হোসেন (৪০) বুধবার রাতে ঢাকার উত্তরার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
তিনি সাবেক এমপি মেজর অবসরপ্রাপ্ত মনজুর কাদেরের পক্ষের অনুসারী ছিলেন। এ নিহতের ঘটনায় রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের পক্ষকে দায়ী করেছে প্রতিপক্ষ।
সাবেক এমপি মেজর (অবঃ) মঞ্জুর কাদেরের পক্ষের সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এমএ কাশেম অভিযোগ করে জানান, আমরা ছাত্র জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র ২, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করি।
মঙ্গলবার বিকেলে (১৮ মার্চ, ২০২৫) এর স্থান দেয়া হয় সদিয়া চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ। কিন্তু আলীম পক্ষের থানা বিএনপি’র সদস্য সচিব মনজুর রহমান মঞ্জু শিকদার ও তার লোকজন চৌহালী ইউএনওকে দিয়ে ফোন করিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন না করার জন্য বারণ করেন।
এজন্য আমরা এক কিলোমিটার দূরে করোনা বাজারে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করি। সদিয়া চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে থাকা সামিয়ানা সরানোর জন্য মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে গেলে দেখা যায়, সেখানে আলিম গ্রুপের থানা বিএনপি’র সদস্য সচিব মঞ্জু শিকদার ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে।
তখন সামিয়ানা তুলতে গেলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মঞ্জু শিকদারের নির্দেশে তার ভাই থানা ছাত্রদলের আহবায়ক সোহাগ সিকদার, বিএনপি নেতা কালাম শিকদারসহ তাদের লোকজন আমাদের পক্ষের ৫ জনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেদম মারধর করে।
পরে তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা কবির হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করলে বুধবার রাতে মারা যান।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এনায়েতপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে দলীয় নেতাকর্মীরা। তখন তারা বিএনপি নেতা আলিম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়।
এসময় এনায়েতপুর থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান আতা, বর্তমান থানা যুবদলের সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম রাজ ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এমএ কাশেম, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী শেখ, যুবদল নেতা ফরিদ হোসেন, বক্তব্য রাখেন।
তারা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আলীম গ্রুপের পক্ষকে দায়ী করে তাদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানান।
তবে আলীম গ্রুপের পক্ষের এনায়েতপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মনজুর রহমান মঞ্জু শিকদার জানান, আমাদের ফাঁসাতে পুরো ষড়যন্ত্র করছে অপরপক্ষ।
এদিকে এনায়েতপুর থানার ওসি রওশন ইয়াজদানী জানান, দুই গ্রুপের বিভাজনের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আহত একজন মারা গেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে বিষয়টি জানতে রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপি’র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।