রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
প্রবাসীদের জ্ঞান ও বিনিয়োগে শক্তিশালী হচ্ছে অর্থনীতি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ম্যানচেস্টার টেমসাইড কাউন্সিলের সিভিক মেয়রের সাক্ষাৎ —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর —-তথ্য প্রতিমন্ত্রী তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬৭ জন গ্রেফতার রাজধানীর খেলার মাঠ উন্নয়নে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিদর্শন টিম পাট খাতের উন্নয়নে জেডিপিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে- বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম কুমিল্লা তিতাসে এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়াকে গণসংবর্ধনা খুলনায় পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু: নীরব যন্ত্রণার আড়ালে এক মানবিক বার্তা কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিক অর্থনীতি মজবুত হবে —মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী

নারী-পুরুষ সহবস্থান করে এমন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ইসলামী বিধান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

ফারজানা ফারাবী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

ফারজানা ফারাবী, ধর্মীয় ডেক্সঃ ইসলাম এমন এক পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা যা মানুষের জীবনের প্রতিটি দিকের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক জীবন—সব ক্ষেত্রেই ইসলামের নীতিমালা মানুষের মর্যাদা, শালীনতা ও সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে। কর্মজীবনে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ সম্পর্কেও ইসলাম দিয়েছে সর্বোত্তম ও বাস্তবসম্মত নির্দেশনা।

বর্তমান যুগে নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন, প্রযুক্তি ও সমাজসেবা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। অনেক সময় দেখা যায়, নারীরা এমন প্রতিষ্ঠানেও চাকরি করতে বাধ্য হন যেখানে পুরুষ সহকর্মীরাও উপস্থিত থাকে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে—এমন পরিবেশে কাজ করা ইসলামে কতটা অনুমোদিত এবং সেই চাকরির বেতন হালাল নাকি হারাম?

প্রথমেই বুঝতে হবে, ইসলাম কখনোই নারীদের কর্মসংস্থান নিষিদ্ধ করেনি। বরং ইসলাম নারীদের জ্ঞানার্জন, কর্মদক্ষতা এবং সমাজে অবদান রাখাকে উৎসাহিত করেছে। তবে ইসলাম চায় নারীরা যেন তাদের পর্দা, ইজ্জত ও চরিত্র রক্ষা করে, অশ্লীলতা বা ফিতনা থেকে দূরে থেকে কাজ করেন।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “আল্লাহ কারো উপর তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপান না।” (সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮৬)। অর্থাৎ, যদি কোনো নারী একান্ত প্রয়োজনের কারণে এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে বাধ্য হয় যেখানে পুরুষও আছে, তবে সে যদি ইসলামী সীমারেখা মেনে চলে, তাহলে তার জন্য সেই কাজ করা বৈধ হবে ইনশাআল্লাহ।

ইসলামী শরীয়তের নির্দেশ অনুযায়ী নারীর কর্মক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই অনুসরণীয়—
প্রথমত, পর্দা রক্ষা করা। কর্মস্থলে পোশাক হবে শালীন, ঢিলেঢালা এবং অলংকার বা সৌন্দর্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়।

দ্বিতীয়ত, কাজের প্রয়োজনে কথা বলা যাবে, তবে কথায় সংযম ও ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে রোগ আছে সে লালসায় না পড়ে।” (সূরা আল-আহযাব: আয়াত ৩২)।
তৃতীয়ত, পরপুরুষের সঙ্গে নির্জন স্থানে অবস্থান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন কোনো পুরুষ ও নারী একান্তে থাকে, তখন শয়তান তৃতীয়জন হয়।” (তিরমিজি)।
চতুর্থত, হাসাহাসি, অপ্রয়োজনীয় আলাপ, দুষ্টামি বা ফাজলামি পরিহার করতে হবে।
পঞ্চমত, সুগন্ধি ব্যবহার বা এমন সাজসজ্জা করা যা পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা পরিহার করতে হবে।
ষষ্ঠত, কাজ শেষে দ্রুত বাড়ি ফেরা উত্তম, যাতে অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান না হয়।

যদি কোনো নারী এসব ইসলামী শর্ত মেনে চলে, তবে তার চাকরি জায়েজ এবং প্রাপ্ত বেতন সম্পূর্ণ হালাল। বেতন থেকে কিছু দান করা বা না করা—এর সঙ্গে আয়ের হালাল-হারামের কোনো সম্পর্ক নেই। হালাল উপার্জন নিজেই একটি ইবাদত, এবং তা দিয়ে পরিবার পরিচালনা করা, সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত করা বা সমাজসেবা করা ইসলামের দৃষ্টিতে নেক কাজ।

আজকের সমাজে অসংখ্য নারী ইসলামী আদর্শ মেনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন। কেউ কুরআন ও ইসলামী শিক্ষা প্রদান করছেন, কেউ নারীদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত, আবার কেউ সমাজে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এসব ক্ষেত্রেই ইসলাম নারীর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানায়, যতক্ষণ পর্যন্ত তা নৈতিকতা ও পর্দার সীমার মধ্যে থাকে।

রাসুল (সা.)-এর যুগেও নারীরা সমাজে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। উম্মে সালামা (রা.) ছিলেন প্রজ্ঞাবান উপদেষ্টা, উম্মে আতিয়া (রা.) যুদ্ধক্ষেত্রে সেবিকা ছিলেন, শিফা বিনতে আবদুল্লাহ (রা.) ছিলেন শিক্ষিকা। তাদের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, ইসলাম নারীকে ঘরে আবদ্ধ করেনি; বরং সমাজে সম্মানজনক দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম নারীদের উচিত এমন পেশা বেছে নেওয়া যেখানে পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করা সহজ। যেমন—নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মহিলা হাসপাতাল, নারী ব্যাংক, অনলাইন শিক্ষা বা ইসলামী সংগঠন। একইসঙ্গে সমাজ ও রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব এমন নিরাপদ ও নৈতিক কর্মপরিবেশ তৈরি করা, যেখানে নারীরা সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন।

সর্বোপরি, ইসলাম কখনোই নারীর উন্নয়ন বা কর্মজীবনের পথে বাধা নয়; বরং ইসলামই দিয়েছে নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা। একান্ত প্রয়োজনে নারী এমন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন যেখানে পুরুষও আছে, তবে শর্ত হলো—ইসলামী পর্দা ও আদর্শ যেন লঙ্ঘিত না হয়।

যে নারী নিজের ইমান, শালীনতা ও আত্মসম্মান রক্ষা করে পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করেন, তিনি কেবল নিজের নয়, পুরো সমাজের জন্য কল্যাণের বার্তা বয়ে আনেন। ইসলাম এমন নারীকেই শ্রদ্ধা করে, যিনি কর্মজীবী হয়েও তাঁর ধর্ম, নীতি ও পবিত্রতা রক্ষা করেন। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সমাজের নারীদের এমন মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের তাওফিক দান করেন—আমিন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102