রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে আশুলিয়ায় মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী বিশাল র‍্যালি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল জিহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে অবরোধ বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচারে সরকারের খরচ প্রায় শূন্য; গত বিশ্বকাপে মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১৪০ কোটি টাকা : তথ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে দেশপ্রেম ও সততার সাথে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের আত্মত্যাগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে —স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে ৫ বছর মেয়াদি নতুন কর্মপরিকল্পনা আইএলও মহাপরিচালকের সাথে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বৈঠক: শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যৌথ অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দীকের মৃত্যুতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শোক ১ম গোল্ডেন বুট, ২য় বিশ্বকাপ, ৩য় গোল্ডেন বল, নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি দেশের ১০ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক

সিউডোবুলবার ব্যাধি : মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনা–জয়দেব বেরা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৭০ বার পড়া হয়েছে

সিউডোবুলবার ব্যাধি : মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনা

জয়দেব বেরা

[অতিথি অধ্যাপক,বই লেখক,সমাজকর্মী এবং সমাজ-মনোবিশ্লেষক]

সিউডোবুলবার (Pseudobulbar) ব্যাধি হল একধরনের স্নায়বিক ব্যাধি যা কান্না, হাসি, রাগ বা অন্যান্য মানসিক প্রদর্শনের অনিচ্ছাকৃত বিস্ফোরণ ঘটায়।এই সমস্যাটি আমাদের শারীরিক ও সামাজিক-মানসিক সমস্যার সাথে যুক্ত।এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে ব্যক্তিরা মূলত নিজেদের হাসি ও কান্নার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে ব্যার্থ হয়।যে কোনও পরিস্থিতিতে হাসি ও কান্না প্রকাশ হয়ে যায়,যদিও তা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রত্যাশিত নয়।এই সমস্যাটি হলে ব্যক্তির স্নায়ু এবং মুখের পেশীর সমস্যা আসে।অর্থাৎ সিউডোবুলবার পালসি হল একটি স্নায়বিক অবস্থা যা মুখের পেশী নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হ্রাস করে, সেইসাথে কথা বলা, চিবানো এবং খাওয়ার গিলতে বাধা দেয়।পাশাপাশি হাসি, কান্না প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণেও বাধা দেয়।এর ফলে অনিয়ন্ত্রিত হাসি-কান্না প্রকাশ হয়ে যায়।এই সমস্যা হলে ব্যক্তি যখন খুশি হেসে ফেলে আবার যখন খুশি কান্না করে ফেলে।সিউডোবুলবার পালসিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হঠাৎ করে হাসি বা কান্নার অনুপযুক্ত পর্বও অনুভব করতে পারেন, যা সিউডোবুলবার ইফেক্ট (PBA) নামে পরিচিত। যদিও এটি নিজেই কোনও রোগ নয়, সিউডোবুলবার পালসি একটি অন্তর্নিহিত স্নায়বিক ব্যাধির লক্ষণ যার আরও চিকিৎসা মূল্যায়ন এবং ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

সিউডোবুলবার এর সাধারণকিছু উপসর্গ হল-হঠাৎ এবং অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত হাসি বা কান্না,মানসিক অস্থিরতা,
রাগ, হতাশা, বিষণ্নতা ইত্যাদি। এমনকি কথা বলা ও খাওয়ার খাওয়াতেও সমস্যা দেখা যায়।

এই সমস্যার কারণগুলি হল- স্ট্রোক, ট্রমাটিক ব্রেন ইনজুরি (TBI),নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ,ব্রেন টিউমার, সেরিব্রাল পালসি,মাথায় আঘাত লাগা, বয়সজনিত সমস্যা, অত্যাধিক মানসিক চাপ ও অস্থিরতা,স্নায়বিক অসুস্থতা,নেশাগ্রস্ততা প্রভৃতি।

এই ব্যাধিটি হলে ব্যক্তিকে শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে হবে।কারণ অনিয়ন্ত্রিত হাসি ও কান্নার ফলে ব্যক্তিকে সমাজে নানান খারাপ কথা শুনতে হয়,নানান সমালোচনার সম্মুখীনও হতে হয়।তবে বিশ্বাস করুন এতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির কোনও দোষ থাকে না।এই ব্যাধিটি হলে যে কেউ হাসি ও কান্নার নিয়ন্ত্রণ এর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।যদিও এই সমস্যাটি স্নায়বিক সমস্যা তবুও এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক ও মানসিক সমস্যা চলে আসে,চলে আসে বৈষম্যও।কারণ সমাজের বেশিরভাগ মানুষ কিছু না বুঝেই,কিছু না জেনেই সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে নানান মন্দ কথা শুনিয়ে দেয় এবং খারাপ আচরণ ও খারাপ ব্যাবহারও করে ফেলে।এর ফলে এই সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিটির মানসিক বিষণ্ণতা বাড়তে থাকে।তার সমাজিক ও মানসিক চাপও বৃদ্ধি পায়,লজ্জার জন্য হয়তো সে কোথাও যেতে পারে না,কারুর সাথে মিশতে পারে না,কোনও অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করে না।কারণ সবাই তাকে নিয়ে মজা করে,খারাপ কথাও শোনায়।তাই এই সমস্যাটি হলে একদম মানসিক চিন্তা না করেই প্রথমে একজন নিউরোলজিস্ট ডাক্তারবাবুর কাছে যাবেন এবং চিকিৎসা করাবেন অপরদিকে চাই মানসিক পরামর্শ।এর জন্য দক্ষ মনোবিদ ও কাউন্সেলরের কাছেও যেতে হবে।মনোবিদ বিভিন্ন থেরাপি ও কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এই সমস্যাটিকে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করবেন।স্পিচ থেরাপি থেকে শুরু করে ব্রিদিং এক্সারসাইজ,CBT সহ আরও অন্যান্য থেরাপি এবং কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে একজন কাউন্সেলর তথা মনোবিদ এই সমস্যাকে দূরীকরণ করতে সাহায্য করবেন।তবে সর্বপ্রথম যেটা করতে হবে এর লক্ষণগুলোকে ভালো করে চিহ্নিতকরণ করে একজন ভালো নিউরোলজিস্ট ডাক্তারবাবুর কাছে পরামর্শ নেওয়া তারপর মনোবিদ তথা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া।তবেই এই সমস্যাটিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

ভারতবর্ষ,পশ্চিমবঙ্গ,পূর্ব মেদিনীপুর

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102