আলী আহসান রবি :
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং বীর শহীদদের অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের লক্ষ্যে ০৫ আগস্ট ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করছে সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সাইট অফিস, পুনর্বাসন এলাকা ও প্রকল্পসমূহে দিনব্যাপী নানা তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হবে।
আজ বাদ জোহর সেতু ভবন মসজিদসহ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সকল স্থাপনা, সাইট অফিস, পুনর্বাসন এলাকা ও প্রকল্প সংলগ্ন মসজিদসমূহে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোনাজাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য শহিদ মুক্তিযোদ্ধা এবং যাঁরা যুদ্ধাহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছিলেন, বিগত ১৭ বছরের দীর্ঘ সময়ে স্বৈরাচারী শাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যারা অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, যাঁরা স্বজন হারিয়ে চিরতরে নিঃস্ব হয়েছেন; ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নিজের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন তাঁদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করা হয়। পাশাপাশি এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে যারা এখনো চিকিৎসাধীন আছেন এবং যাঁদের অনেকে দেশের জন্য লড়াই করে হাত, পা কিংবা চোখ হারিয়ে চিরতরে অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন, তাঁদের শেফায়ে কামেলা এবং দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা জন্যও দোয়া করা হয়। একই সাথে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।
আগামীকাল ৫ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন জাদুঘরসমূহে (যমুনা সেতু ও পদ্মা সেতু) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে (বিনা মূল্যে) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সকল বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকিটে (বিনা মূল্যে) প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হবে।
নতুন প্রজন্মের মাঝে ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস ও দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সাইট অফিস সংলগ্ন পুনর্বাসন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকথা ও তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
দিবসটির ভাবগাম্ভীর্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন সকল সেতুর টোল প্লাজায় ইলেক্ট্রনিক/ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের বার্তা প্রদর্শন করা হবে। সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক, সড়কদ্বীপসমূহে ও টোল প্লাজায় জাতীয় পতাকাসহ তাৎপর্যপূর্ণ ব্যানার, ফেস্টুন ও স্মারক প্ল্যাকার্ড স্থাপন করে সুসজ্জিত করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের বীরত্বগাথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সেতু সচিব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন রয়েছে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রতিটি প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, সততা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। জনগণের অর্থ ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মানসম্মত ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
সেতু সচিব আরও বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের জন্য নির্বিঘ্ন ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সেতু বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সকল স্তরের প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী শতভাগ পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।