মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
ব্যাংক বীমা অর্থনিউজ
দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগেই মিলবে টেকসই সমাধান —- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সাতক্ষীরায় BLISS হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: উদ্ধার অভিযান ও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তায় বিজিবি ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানসহ ৫ পরিচালকের পদ শূন্য? আইনের ১০৮ ধারা, তদন্তের অসঙ্গতি ও সুশাসন সংকটে নতুন প্রশ্ন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ বাংলাদেশি নাবিকদের সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশে ভিসা জটিলতা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ —-নৌপরিবহন মন্ত্রীর কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বাংলাদেশের ৮৪২৮ পণ্য সমঝোতার ভিত্তিতে জনপ্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংশোধন করা হবে —স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজশাহী/ দুই সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি বাংলাদেশে বিনিয়োেগ মানেই ৩০০ কোটিরও বেশি ভোক্তার বাজারে প্রবেশের সুযোগ —-প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাভারে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযান ট্যাপেন্টাডল ও ফেয়ারডিলসহ দুই নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার!

কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বাংলাদেশের ৮৪২৮ পণ্য

আলী আহসান রবি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আলী আহসান রবি :

ঢাকা : ৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (Comprehensive Economic Partnership Agreement-CEPA) নিয়ে নেগোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরের আলোচনার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে এ অগ্রগতির ঘোষণা দেওয়া হয় । আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের ধাপ শেষ হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অপরদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের বাজারে ১ হাজার ৫৪টি পণ্যে একই সুবিধা ভোগ করবে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য ও সেবা কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে, যেখানে বাংলাদেশের বাজারে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য একই ধরনের সুবিধা লাভ করবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে CEPA Negotiation Conclusion Ceremony-তে যৌথ ঘোষণা দেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও (Han-Koo Yeo)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান এনডিসি, বাংলাদেশের প্রধান নেগোসিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান নেগোসিয়েটর পার্ক গিউন-ওহ এবং ডেপুটি প্রধান নেগোসিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের একটি উচ্চমানের বাণিজ্য চুক্তির নেগোসিয়েশন সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, হোম টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করবে।

তিনি জানান, সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সে লক্ষ্য অর্জনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সিইপিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী হান-কু ইয়েও বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। এতদিন সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূলত টেক্সটাইল খাত। এখন সময় এসেছে সম্পর্ককে প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প সহযোগিতা ও বিনিয়োগের মতো নতুন খাতে সম্প্রসারণের। তিনি বলেন, সিইপিএ কার্যকর হলে কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ আরও বাড়বে।

সেবা খাতেও বড় অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার :

পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা খাতেও দুই দেশ উল্লেখযোগ্য বাজার উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ কোরিয়ার জন্য ৯৫টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি উপখাতে চারটি মোডে সেবা বাণিজ্যের সুযোগ দেবে। এতে প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক বছরে পাঁচ দফা আলোচনা :

সিইপিএ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে প্রথমে উভয় দেশ Terms of Reference (ToR) চূড়ান্ত করে। পরে Trade Negotiating Committee (TNC) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১১টি Technical Working Group (TWG) গঠন করা হয়।

২০২৫ সালের ২২ থেকে ২৭ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে প্রথম দফা আলোচনা শুরু হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী মোট পাঁচ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশে দুই দফা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় তিন দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন অনিষ্পন্ন বিষয়ে প্রধান নেগোসিয়েটর পর্যায়ে প্রায় ৪০টি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর আলোচনার সমাপ্তি ঘটে।

বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা :

বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার, আর আমদানি করে প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৪১১ মিলিয়ন ডলার।

বর্তমানে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক সামগ্রী রপ্তানি করে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় শিল্পযন্ত্র, লোহা ও ইস্পাত, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক, রাসায়নিক ও কাগজজাত পণ্য।
উল্লেখ্য , সিইপিএ কার্যকর হলে শুধু রপ্তানি নয়, শিল্পায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য সক্ষমতা ধরে রাখতে এ চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

বর্তমানে এটি নেগোসিয়েটর পর্যায়ের আলোচনার সমাপ্তি। উভয় দেশের আইনগত প্রক্রিয়া এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©1992 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102