নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), খুলনা কেন্দ্রের নবনিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (কেন্দ্র প্রধান) প্রকৌশলী পীযুষ সেন-এর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী পীযুষ সেন গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খুলনা বিটাকে নির্বাহী প্রকৌশলী (কেন্দ্র প্রধান) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পরিচিতি বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরা তার কার্যালয়ে গেলে অফিস সহায়ক তাদের অফিসকক্ষে প্রবেশে বাধা প্রদান করেন তিনি জানান, কেন্দ্র প্রধানের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না। পরে অনুমতি পেলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে আসতে হবে বলে সাফ জানিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে সাংবাদিকরা প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে প্রবেশ করলে, অভিযোগ অনুযায়ী প্রকৌশলী পীযুষ সেন বলেন, “আমার সঙ্গে সাংবাদিকদের কোনো কথা নেই, তাদের বের করে দিন।”
এ বক্তব্য শুনে সাংবাদিকরা তার কাছে এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর উপস্থিত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গেই একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ হয়, তবে সাধারণ সেবা নিতে আসা মানুষ কী ধরনের ব্যবহার ও সেবা পাবেন—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) কর্মচারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত বলেন, “তিনি নতুন যোগদান করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করেছেন, তা আমি জানি না। তবে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন ব্যবহার কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের মানসিকতার কর্মকর্তা বিটাকে দায়িত্ব পালন করলে খুলনা অঞ্চলের সেবা প্রত্যাশী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গণমাধ্যমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব। তাই অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।