সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, মাহমুদুল আলম চৌধুরীঃ
আসন্ন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গণপতি রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান, ডিএসবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ জুলফিকার আলী, উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল আলম, সাংবাদিক হীরক গুণসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এছাড়া ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, কামারখন্দ, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম প্রতিটি উপজেলার সার্বিক বন্যা প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
ভার্চুয়াল সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের নিজ নিজ উপজেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরি ত্রাণ বিতরণের জন্য নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, জিআর (GR) চাল, গবাদিপশুর খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, উদ্ধার সরঞ্জাম সচল রাখা এবং সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রস্তুত রাখার বিষয়েও তারা জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
সভায় সদর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান মিয়া জানান, জেলার জন্য বর্তমানে ৫৪ বান্ডিল ঢেউটিন মজুদ রয়েছে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে দ্রুত এসব সহায়তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীও পর্যাপ্ত পরিমাণে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। সরকারি সব দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে দুর্যোগের সময় মানুষের জানমাল রক্ষা এবং দ্রুত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
জাতীয় পর্যায়ে এনজিও
এনডিপি’র নির্বাহী পরিচালক জানান তাদের
পক্ষ থেকে বলেন বন্যা দুর্গত এলাকায় প্রত্যেক জনকে ৫০০০ করে নগদ টাকা ও কবাদি গরু খাদ্য দেওয়া হবে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এই জরুরি সভায় সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় থেকে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।