মোঃ ফারুক আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার:
সরাইলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাল ডাকাতদল, উদ্ধার হলো জিম্মি হেলপার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে থানা পুলিশের চৌকস নজরদারি, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সাহসী অভিযানে ডাকাতির কবল থেকে ৩১টি ষাঁড় বাছুর বোঝাই একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নাম্বারবিহীন মিনি পিকআপ, একটি আইফোন, গুরুত্বপূর্ণ গাড়ির কাগজপত্র, চাবিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা ট্রাকের হেলপারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ডাকাতচক্রের সদস্যরা অন্ধকারের সুযোগে হাওড় এলাকায় পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সরাইল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. বখতিয়ার আলম, এসআই মোহাম্মদ তানভীর ভূইয়া এবং সঙ্গীয় ফোর্স কুট্টাপাড়া বিশ্বরোড থেকে শাহবাজপুর এলাকায় নিয়মিত টহল ও তদারকি ডিউটিতে ছিলেন। এ সময় কুট্টাপাড়া-খাটিহাতা মহাসড়কে থানার সামনে অবস্থানকালে সিলেট থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীরা “ডাকাত, ডাকাত” বলে চিৎকার শুরু করেন। পরে বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে, বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা এলাকা থেকে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ৩১টি গরুভর্তি একটি ট্রাক ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়েই সময় নষ্ট না করে এসআই বখতিয়ার আলম ও তাঁর টিম ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করে ধাওয়া শুরু করেন। পুলিশের ধাওয়া টের পেয়ে ডাকাতরা মহাসড়ক ছেড়ে কুট্টাপাড়া হয়ে নাসিরনগর সড়কের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে নাসিরনগর সড়কে দায়িত্ব পালনরত এএসআই মো. কারুন বিল্লাকে জানানো হলে তিনি ধরন্তী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে রাস্তা অবরোধ করেন।
এ সময় ডাকাতরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ট্রাক দিয়ে এএসআই কারুন বিল্লাকে চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে এএসআই কারুন বিল্লা সাহসিকতার সঙ্গে অভিযানে অংশ নিয়ে ট্রাকটিকে ধরন্তী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে থামাতে সক্ষম হন। পরে ডাকাতরা ট্রাক থেকে নেমে অন্ধকারের সুযোগে পাশের হাওড়ের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযান শেষে রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা ট্রাকের হেলপার মো. হুমায়ুন কবির বিপ্লব (৫৫), পিতা- শামছুদ্দিন, মাতা- সাহেরা বেগম, সাং- শ্যামপুর, থানা- কাঁটাখালী, জেলা- রাজশাহীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ৩১টি বিভিন্ন রঙের ষাঁড় বাছুর বোঝাই ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-২৯৭৯ নম্বরের একটি হলুদ রঙের টাটা ট্রাক, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নাম্বারবিহীন নেভি ব্লু রঙের টাটা সিঙ্গেল কেবিন মিনি পিকআপ এবং একটি ‘Jeep BULDO’ লেখা বাদামী রঙের কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ। ব্যাগের ভেতর একটি আইফোন ৬ প্লাস মোবাইল ফোন, গাড়ির স্মার্ট রেজিস্ট্রেশন সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ, রাইড শেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট, দুটি চাবি সংযুক্ত রিং এবং একটি মানিব্যাগ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিজয়নগর থানাকে প্রয়োজনীয় বার্তা পাঠানো হয়েছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
স্থানীয়দের মতে, সরাইল থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, সমন্বিত অভিযান এবং দায়িত্বশীল ভূমিকায় বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা নস্যাৎ হওয়ায় মহাসড়ক ব্যবহারকারী পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পুলিশের এই সফল অভিযান এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।