আলী আহসান রবি :
ঢাকা, শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম আজ ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য বর্তমান সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন।
রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপি সংস্কার কমিটির আয়োজিত ‘সংস্কার অচলাবস্থা: ভবিষ্যৎ পথ’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটিতে কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৪ সালের বিপ্লব ছিল স্বৈরাচারের এক ঐতিহাসিক প্রত্যাখ্যান। বাংলাদেশের জনগণ বাহ্যিক সংস্কার নয়, বরং কাঠামোগত রূপান্তর চেয়েছিল।’
জুলাই সনদ এবং ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণ বিপুলভাবে সংস্কারগুলো এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন—উভয়কেই অনুমোদন দিয়েছে।’
প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার জন্য বিএনপিকে অভিযুক্ত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের কাঠামোকে সমর্থন করেছিলেন। অথচ ক্ষমতায় আসার পর সরকার সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন করতে অস্বীকৃতি জানায়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা, পুলিশের জবাবদিহিতা এবং গুম সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করেছে এবং নতুন আইনের মাধ্যমে নির্বাহী ক্ষমতা প্রসারিত করেছে।
এনসিপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, বহুত্ববাদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে, গণতান্ত্রিক উপায়ে সেই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এনসিপি সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপ-প্রধান সারওয়ার তুষার, এনসিপি-র যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ এবং সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ নুসরাত তাবাসসুমও অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানটিতে জাভেদ রাসিন, সাংসদ মাহমুদা মিতু, ফরিদুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।