নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক এই আমার দেশ :
সাভার: মুক্তিযুদ্ধের অমর স্মারক জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রতিদিন শত শত মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়। এই অনন্য স্থাপনাটির প্রতিটি ইট-পাথরের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন একজন নীরব কর্মী। তিনি গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিসৌধের সৌন্দর্য ও মর্যাদা রক্ষায় নিবেদিত রয়েছেন তিনি।
প্রতিদিনের নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ :
স্মৃতিসৌধের প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতা, কাঠামোগত সুরক্ষা, সবুজায়ন এবং দর্শনার্থীদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। প্রতিদিনের শতাধিক দর্শনার্থী থেকে শুরু করে জাতীয় দিবসগুলোতে লাখো মানুষের উপস্থিতি সামলাতে তিনি দক্ষভাবে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
তার ভাষায়, “জাতীয় স্মৃতিসৌধ কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের প্রতীক। এর সংরক্ষণ আমাদের জাতিগত গর্বের বিষয়।”
সৌন্দর্য ও নিরাপত্তায় আধুনিক ছোঁয়া :
প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে স্মৃতিসৌধ চত্বরের পরিবেশ আজ আগের চেয়ে আরও পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক। আধুনিক বনায়ন পরিকল্পনা, সুশৃঙ্খল ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে স্মৃতিসৌধে এসেছে প্রশংসনীয় পরিবর্তন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং সর্বাধুনিক পর্যবেক্ষণ ক্যামেরা স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য।
একজন দর্শনার্থী জানান, “স্মৃতিসৌধে আসলে এখন একধরনের প্রশান্তি মেলে। সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার এই উন্নতি নিঃসন্দেহে দৃষ্টিনন্দন।”
ঐতিহ্য রক্ষায় নিরব যোদ্ধা :
দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে স্মৃতিসৌধের গৌরবময় ইতিহাস রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন প্রকৌশলী মিজানুর রহমান। তার দক্ষ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ আজ শুধুমাত্র একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল, আধুনিক এবং নান্দনিক দর্শনীয় স্থান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, ভবিষ্যতেও তার দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে জাতীয় স্মৃতিসৌধের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বহন করে যাবে।