নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আসসালামু আলাইকুম।
প্রথমেই আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার জন্য।
আপনারা জানেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ সালে। আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আপনাদের আস্থায় অল্প সময়েই এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের সীমানা পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ও সফল ইসলামী জীবনবীমা কোম্পানিতে পরিণত হয়। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে এই কোম্পানির সুনাম ও গ্রাহক আস্থা।
কিন্তু ২০০৮ সালে ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে কিছু অসাধু ব্যক্তির। বিশেষ করে নজরুল-খালেক-হেমায়েত চক্র তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বেআইনিভাবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয়। এরপর তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও আত্মসাতের মাধ্যমে কোম্পানির হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি বুঝতে পেরে ২৪ নভেম্বর ২০২০ সালে মহামান্য হাইকোর্টে (মামলা নং ৮৯৩২/২০) মামলা দায়ের করি। হাইকোর্টের নির্দেশে নজরুল-খালেক চক্রের অবৈধ বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাদের দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তাদের বিদায়ের সময় কোম্পানির মূলধন ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়, এবং দায় ছিল প্রায় ২,০৮২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC)-এর তদন্তে নজরুল-খালেক গংদের দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। এ ঘটনায় কোম্পানির পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ১২৫৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নজরুল-খালেক গং ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও চাকরিচ্যুত কিছু অসাধু কর্মচারিকে ব্যবহার করে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট সংঘটিত করে। এ ঘটনায় আমরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।
পাল্টা প্রতিশোধমূলকভাবে তারা তাদের সহযোগী শাহাদাত হোসেন আকন্দ (দুর্নীতির মামলার আসামি শাহিনুল ইসলামের ভাই) এর নামে কোম্পানির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, বোর্ড সদস্য ও কর্মকর্তাদের জড়িত করে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
এর পাশাপাশি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো — দেশের একটি সুনামধন্য, গ্রাহক-নির্ভর, ইসলামী জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের বিভ্রান্ত করা, এবং কোম্পানির ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই — ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বর্তমানে সম্পূর্ণ বৈধভাবে, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (IDRA)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
আমাদের সকল আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে, নিয়মিত অডিট ও পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে গ্রাহকদের বকেয়া দাবি নিষ্পত্তি ও সেবাদানে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছি।
উদাহরণ হিসেবে বলি— নজরুল-খালেক বোর্ড যখন আদালতের নির্দেশে অপসারিত হয়, তখন ২,৩৫,০৩৫টি ম্যাচুরিটি পাওয়া পলিসির বিপরীতে ১,৫০৯ কোটি ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৪ টাকা দায় অবশিষ্ট ছিল (জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত)।
আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ২৬৮ কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৪ টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করেছি।
অতীতে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং প্রশাসনিকভাবে অপসারিত হয়েছে, তারা এখন নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ও ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষায় মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ,
আপনারা জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ — দয়া করে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করুন, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
আমরা তথ্য-প্রমাণসহ সব বিষয়ে স্বচ্ছভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড সর্বদা দেশের বীমা খাতের উন্নয়ন, গ্রাহকের অধিকার সংরক্ষণ এবং ইসলামী নীতিমালার আলোকে সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
পরিশেষে আমি বলতে চাই —
এই প্রতিষ্ঠান কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি আমাদের গ্রাহক, এজেন্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শেয়ারহোল্ডারদের সম্মিলিত আস্থার প্রতীক।
আমরা সেই আস্থার প্রতি দায়িত্বশীল, দৃঢ় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ধন্যবাদ।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
মো. ফখরুল ইসলাম
চেয়ারম্যান
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড
তারিখ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ ইং