ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫:
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজধানীর পুরানা পল্টনের ইআরএফ হলরুমে অনুষ্ঠিত হলো ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (IDAB)-এর ৯ম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান ও মর্যাদাপূর্ণ “IDAB Excellence Award 2025” প্রদান। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে এক্সক্লুসিভ প্রশিক্ষণ কর্মশালা, আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পীরজাদা মোঃ শহিদুল হারুন, সাবেক উপসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—আবুল বাশার আকন্দ, বিশিষ্ট বীমা ব্যক্তিত্ব ও উপদেষ্টা, IDAB, হাসান খান রিপন, ভাইস চেয়ারম্যান, IDAB, মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, ভাইস চেয়ারম্যান, IDAB, ড. কাজী ফারুক বাবুল, উপদেষ্টা, IDAB, মহিবুল্লাহ এইচ চৌধুরী, প্রেস ও মিডিয়া সচিব, IDAB, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, সিনিয়র ডিএমডি, ট্রাস্ট লাইফ, এম. হোসাইন আহমেদ, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক এই আমার দেশ ও দৈনিক গর্ব বাংলাদেশ,
মোঃ নুরনবী সোহেল, নির্বাহী সম্পাদক, ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ,
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এম.জি.এম. সজল, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (IDAB)।
প্রশিক্ষণ কর্মশালা,
সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় “Sales & Leadership” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমেদ এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মোটিভেশনাল স্পিকার ড. আলমাসুর রহমান (USA)।
প্রশিক্ষণ সেশনে বীমা খাতে বিক্রয়কৌশল, নেতৃত্ব গুণাবলী, গ্রাহক আস্থা অর্জন এবং নৈতিকতার গুরুত্ব নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান,
বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে প্রধান অতিথি ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করে বক্তব্য রাখেন এবং এরপর শুরু হয় IDAB Excellence Award 2025 প্রদান।
এ সময় বীমা খাতে বিশেষ অবদান রাখায় সংগঠনের শ্রেষ্ঠ সদস্য ও নতুন লাইফ মেম্বারদের হাতে ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথি পীরজাদা মোঃ শহিদুল হারুন বলেন,
“বাংলাদেশের বীমা খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে হলে প্রথমে আমাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকের প্রিমিয়াম যেন নিরাপদ থাকে এবং তাদের ম্যাচুরিটির টাকা সময়মতো পরিশোধ হয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রতিটি কোম্পানির দায়িত্ব।”
আবুল বাশার আকন্দ বলেন,
“বীমা শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, এটি মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার হাতিয়ার। অথচ সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও বীমা নিয়ে ভীতি ও অনীহা রয়েছে। এই অনীহা দূর করতে হলে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে।”
হাসান খান রিপন তার বক্তব্যে বলেন,
“বর্তমান বিশ্বে বীমা খাত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। আমাদেরও ডিজিটাল সেবা বাড়াতে হবে। অনলাইন ক্লেইম সিস্টেম, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও দ্রুত তথ্য সেবা চালু করা গেলে গ্রাহকরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।”
মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন,
“কোম্পানিগুলোকে ঢেলে সাজানো দরকার। পুরনো আইন ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে গ্রাহকরা প্রায়শই ভোগান্তিতে পড়েন। সরকার ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (IDRA) উচিত আধুনিক আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বীমা খাতকে আরও শক্তিশালী করা।”
ড. কাজী ফারুক বাবুল বলেন,
“মানুষ যখন দেখে তাদের বীমার টাকার ব্যবহার স্বচ্ছভাবে হচ্ছে এবং তারা সময়মতো অর্থ পাচ্ছেন, তখনই তারা উৎসাহিত হয়। তাই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের উচিত গ্রাহকের বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।”
মহিবুল্লাহ এইচ চৌধুরী বলেন,
“বীমা নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদপত্র ও অনলাইন মিডিয়ার মাধ্যমে বীমা খাতের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। একইসঙ্গে ত্রুটিগুলোও প্রকাশ পেলে কোম্পানিগুলো নিজেদের সংস্কার করতে উদ্বুদ্ধ হবে।”
মোহাম্মদ শামসুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন,
“বাংলাদেশে এখনও অনেক মানুষ বীমার আওতার বাইরে। আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছাতে হবে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটি বীমার প্রসার বাড়াবে।”
এম. হোসাইন আহমেদ বলেন,
“আমরা সংবাদকর্মীরা চাই বীমা খাত স্বচ্ছ হোক। গ্রাহকরা যাতে প্রতারণার শিকার না হয়। কোম্পানিগুলির সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতা নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে খাতের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।”
মোঃ নুরনবী সোহেল বলেন,
“আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। বীমা সেই নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। তাই সরকারের উচিত এ খাতকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া।”
সভাপতির বক্তব্যে এম.জি.এম. সজল বলেন,
“IDAB প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা সবসময় বীমা খাতকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসা নয়, মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা তরুণ প্রজন্মকে বীমা খাতে সম্পৃক্ত করছি। আগামী দিনে IDAB দেশের বীমা খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে অতিথি ও বক্তাদের অভিন্ন মতামত ছিল
গ্রাহকের আস্থা অর্জন,
সময়মতো দাবি নিষ্পত্তি,
আধুনিক আইন ও প্রযুক্তি প্রয়োগ,
গণমাধ্যমে ইতিবাচক প্রচার,
এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বীমা খাত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান শেষে সম্মানিত অতিথি, পুরস্কারপ্রাপ্ত ও নতুন লাইফ মেম্বারদের সম্মিলিত ছবির মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।