ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ফারজানা ফারাবী, স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে এক আলোচনায় বীমা খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপট, উন্নয়নের সুযোগ এবং সংবাদপত্রের ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ সাইদুল আমিন এর সাথে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক “এই আমার দেশ” ও “দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ”-এর নির্বাহী সম্পাদক এম হোসাইন আহমদ। এছাড়াও “ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ”-এর নির্বাহী সম্পাদক নুরনবী সোহেল এবং প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী উপস্থিত ছিলেন।
বীমা শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
আলোচনায় প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সিইও মোহাম্মদ সাইদুল আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বীমা খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে নানা কারণে এ খাত দীর্ঘদিন ধরে আস্থা সংকটে ভুগছে। গ্রাহকরা তাদের ম্যাচুরিটি ও দাবি নিষ্পত্তির অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বীমা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “কোম্পানিগুলো যদি সময়মতো গ্রাহকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করতে না পারে, তাহলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না। এজন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা।”
ডিএমডি মোহাম্মদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বীমা কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বলেন, দাবিনিষ্পত্তি দ্রুত করার জন্য মালিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি প্রস্তাব করেন, বীমা কোম্পানিগুলো তাদের অ্যাসেট সরকারকে মর্টগেজ দিয়ে সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে পারে। এর ফলে সরকারও বিনিয়োগের নিরাপদ খাত পাবে এবং কোম্পানিগুলো সহজেই গ্রাহকদের ম্যাচুরিটি অর্থ সময়মতো পরিশোধ করতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, “গ্রাহক আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন বীমা শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আস্থা ফিরে এলে বীমা ব্যবসা আবারও প্রসারিত হবে।”
সংবাদপত্রের ভূমিকা
সভায় নির্বাহী সম্পাদক এম হোসাইন আহমদ বলেন, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। বীমা শিল্পের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি নেতিবাচক দিকগুলো গঠনমূলকভাবে উপস্থাপন করলে সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি হবে। তিনি বলেন, “আজকের দিনে বীমা শিল্পের উন্নয়নের জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য। শুধু সমস্যা নয়, সম্ভাবনার গল্পও ছাপাতে হবে।”
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিদেশে বীমা খাত একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশেও এই খাত সমৃদ্ধ হতে পারে যদি সংবাদপত্রগুলো ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের মাঝে সচেতনতা ও আস্থা তৈরি করে।
নুরনবী সোহেল, “ব্যাংক বীমা অর্থ নিউজ”-এর নির্বাহী সম্পাদক, বলেন, “অর্থনৈতিক খাতে বীমা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ খাত নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছায় না। সংবাদপত্রগুলোর দায়িত্ব হলো, পাঠকের সামনে নিরপেক্ষ ও ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা।”
উন্নয়নের রূপরেখা
সভায় আলোচকরা উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সংখ্যা অনেক হলেও সক্রিয়ভাবে গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে পারছে হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থার পরিবর্তনে সরকার, বীমা কোম্পানি এবং গণমাধ্যম—এই তিন পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সিইও মোহাম্মদ সাইদুল আমিন বলেন, “আমরা চাই বীমা খাতকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে। এজন্য আমাদের নিজেদের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি গ্রাহক আস্থা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
উপসংহার
আলোচনা সভায় বক্তারা একমত হন যে, বীমা শিল্পের প্রতি জনগণের আস্থা ফেরানো ছাড়া এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য কোম্পানিগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমকে ইতিবাচক সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে গ্রাহকদের সচেতন করতে হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারী সবাই আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও গণমাধ্যমের সহযোগিতায় দেশের বীমা খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।