নিজস্ব সংবাদদাতা:-
নরসিংদীর মনোহরদীতে পঞ্চাশকুড় দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মাদ্রসার সুপারকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নীচে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উক্ত মাদ্রাসার সুপার হাদিউল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় তিন জনের নাম উল্লেখ্য করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগকারী জানান,অন্তরবর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি সকল মাদ্রাসায় এডহক কমিটি বাতিল ঘোষনা করলে নতুন করে এডহক কমিটি গঠন করার জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করি। এর মাঝে সরদার আসমত আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন সরকারি বিধিবিধান তোয়াক্কা না করে পেশি শক্তির বলে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার পায়তারা করে আসছিল। গত ১০ এপ্রিল মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠনের জন্য মাদ্রাসায় এক সভার আহবান করি। উক্ত সভায় বিবাদীগণ কেউ উপস্থিত হন নাই। এমনকি অভিযোগের ০১ নং বিবাদিকে মাদ্রাসার সভাপতি না করলে আমি কিভাবে মাদ্রাসা পরিচালনা করি তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমি আমার মাদ্রাসার দাপ্তরিক কাজের জন্য ১৩ এপ্রিল রবিবার বিকালের দিকে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসি।
আমার কাজ শেষ করে বাড়িতে যাওয়ার সময় উল্লেখিত বিবাদীগণ অজ্ঞাতনামা আরো বিবাদীকে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নীচে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং সরদার আসমত আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন আমাকে জানায় আমার পরিচালিত মাদ্রাসায় উনাকে এডহক কমিটির সভাপতি করতে হবে।
আমি জানাই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচন করা হবে। এতে ফরহাদ হোসেন উত্তেজিত হয়ে আমাকে কিল ঘুসি মেরে সাধারণ জখম করে। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী এবং আশেপাশের লোকজন এসে আমাকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে নিয়ে যায়। এসময় বিবাদীগণ প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে, ০১ নং বিবাদীকে যে কোন মূল্যে এডহক কমিটির সভাপতি করতে হবে।
অন্যথায় আমাকে খুন, জখম ও আহত করবে। অধ্যক্ষ ফরহাদ হেসেন ম বিএনপি সমর্থিত একজন শিক্ষক বলে এলাকাবাসী জানান। মাদ্রাসার সুপারকে মারধর করায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সাধারণ জনগণ দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করে।