শেখ রাসেল, আশুলিয়া প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অখ্যাত অনলাইন পোর্টালে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলামকে নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজ। বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কিছু ফেইক ফেসবুক আইডি ও নিবন্ধনহীন প্ল্যাটফর্ম থেকে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজন ওসি পরিবর্তন হয়েছে এই থানায়। কোনো নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নিলেই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও কিছু ভুয়া পোর্টাল তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওসি তরিকুল ইসলাম একজন সৎ ও ভালো মনের মানুষ।
অথচ তাকে নিয়েও অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এভাবে ভিত্তিহীন প্রচারণা চলতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়বে এবং তারা কাজ করতে গিয়ে নিরুপায় হয়ে পড়বে। এ ধরনের গুজব কোনোভাবেই কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওসি তরিকুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রচারিত ভিডিও ও পোস্টগুলোতে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ব্রিফিংকালে উত্থাপিত কিছু প্রশ্ন ও অজ্ঞাত পরিচয়ের আইডি থেকে ছড়ানো এসব কনটেন্ট সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মত, কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা অবশ্যই তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পেশাদারিত্বের সাথে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা উচিত। যাচাই ছাড়া ভুয়া তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এবং এতে মূলধারার সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ডিজিটাল যুগে যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। যারা এসব ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ওসির বিরুদ্ধে প্রচারিত তথ্যের নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই এবং এর পেছনে থাকা ফেইক আইডি ও ভুয়া পোর্টাল পরিচালকদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল ও স্থানীয় নেতারা।